Skip to content
সাহিত্য ডটকম সাহিত্য ডটকম

  • হোম
  • বই
    • প্রথম অধ্যায়
    • বইমেলা
    • প্রকাশনা
  • কথাসাহিত্য
    • গল্প
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • নাটক
    • লেখালেখি
    • ভ্রমণ কাহিনী
    • কাল্পনিক চরিত্র
  • প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণ
    • তত্ব
    • প্রবন্ধ
    • ঐতিহ্য
    • সংস্কৃতি
    • ইতিহাস
    • সমালোচনা
    • আত্মজীবনী
  • স্মৃতি
    • চিঠিপত্র
    • স্মৃতিকথা
    • স্মরণ
  • কথোপকথন
    • সাক্ষাৎকার
    • পডকাস্ট
    • বইয়ের আড্ডা
    • বিতর্ক
  • বিবিধ
    • অন্যান্য
    • অ্যানেকডোট
    • লেখক তালিকা
    • পুনর্মুদ্রণ
    • উল্লেখ
    • কোটেশন
    • ছবির গল্প
    • শব্দের গল্প
  • আর্টস
    • চলচ্চিত্র
    • চিত্রশিল্প
    • নৃত্য
    • সঙ্গীত
    • ফটোগ্রাফি
    • মঞ্চ
    • স্থাপত্য
    • এনিমেশন
    • ভিডিও গেমস
    • ডক্যুমেন্টারি
  • চিন্তা
0
সাহিত্য ডটকম
সাহিত্য ডটকম

দ্য টেল অফ কাহো: তিন বছর পর মুরাকামি এবার এক নারীর চোখ দিয়ে

Posted on July 5, 2026July 5, 2026 By সাহিত্য ডেস্ক

হারুকি মুরাকামির নতুন উপন্যাসের প্রথম বাক্যেই এক পুরুষ কাহো নামের মেয়েটিকে বলে বসে, এত মেয়ে সে জীবনে দেখেছে, কিন্তু এর মত কুৎসিত একজনকেও দেখেনি। রাতের খাবারের টেবিলে বসে বলা এই একটা কথা থেকেই পুরো গল্পের সুতা তৈরি হতে থাকে। সাতাত্তর বছর বয়সে মুরাকামি এবার প্রথমবার একটা আস্ত উপন্যাসের ভার তুলে দিয়েছেন একজন নারীর কাঁধে।

বইটা জাপানের দোকানে এসেছে ৩ জুলাই, মধ্যরাত পেরোতেই। টোকিওর শিনজুকুতে কিনোকুনিয়া (Kinokuniya)-য় আগেভাগে দাম মিটিয়ে রাখা পাঠকেরা বারোটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে কপি হাতে পান। নাম দ্য টেইল অফ কাহো (The Tale of KAHO), বাংলায় “কাহোর গল্প”; জাপানি প্রচ্ছদে লেখা 夏帆 বানানে, উচ্চারণে “কাহো”।

মুরাকামির আগের উপন্যাস ‘দ্য সিটি অ্যান্ড ইটস আনসার্টেইন ওয়ালস’ (The City and Its Uncertain Walls) বের হয়েছিল ২০২৩ সালের এপ্রিলে। তারপর তিন বছর নতুন কোনো পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস আসেনি। এমন বিরতি মুরাকামির পাঠকের গা-সওয়া। কিন্তু এবারের বই আলাদা, আর কারণটা শুধু সময়ের হিসাব নয়।

কাহো কে?

কাহো ছাব্বিশ বছরের এক তরুণী, পেশায় শিশুদের ছবির-বই আঁকিয়ে। খুব সুন্দরীও না, খুব চতুরও না, শুধু কৌতূহলটা অন্যদের চেয়ে একটু বেশি। ওই নিষ্ঠুর কথাটা তার দিকে ছুড়ে দেয় সম্পাদকের ঠিক করে দেওয়া এক ব্লাইন্ড ডেটের সঙ্গী, বিএমডব্লিউ মোটরসাইকেলে চড়ে আসা অচেনা এক লোক।

কাহো রাগ হয় না, ভেঙেও পড়ে না। সে শুধু অবাক হয়, আর ভাবতে বসে এই কথার মানে আসলে কী। এই একটা বাক্য থেকেই তার চারপাশে একের পর এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে থাকে। মুরাকামি প্রকাশকের প্রচার-পাতায় ছোট্ট একটা বার্তায় লিখেছেন, কাহো একেবারে সাধারণ এক তরুণী, তবু তার চারপাশে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে থাকে, আর তিনি নিজে সেই মেয়েটি হয়েই উপন্যাস লিখেছেন। তবে বইটা লেখা তৃতীয় পুরুষে, “সে” দিয়ে, “আমি” দিয়ে নয়। বয়ান শুধু কাহোর মনের এত কাছ ঘেঁষে চলে যে অনেক সময় মনে হয়, মেয়েটাই বুঝি বলছে।

৩৫২ পৃষ্ঠার হার্ডকভার আর ডিজিটাল সংস্করণ একসঙ্গেই বের হয়েছে, পুরোটা এক খণ্ডে। প্রথম মুদ্রণেই ছাপা হয়েছে আড়াই লক্ষ কপি। বইয়ের চার অধ্যায়ের নামেই মুরাকামি-ঘরানার সেই চেনা স্বাদ:

১. কাহো ও মোটরসাইকেল-মানুষ

২.মুসাশি-সাকাইয়ের পিঁপড়েভুক

৩. কাহো ও উইপোকার রানি

৪. অভিভাবক দেবদূত, হাতির ডিম ও স্কারলেট জোহানসন

চার গল্পের এক বই

কাহোর গল্প আকাশ থেকে পড়েনি। এর জন্ম একটা ছোটগল্প থেকে, আর সেই জন্মের স্থান এই বইয়ের জন্য সবচেয়ে কৌতূহলপূর্ণ সূত্র। ২০২৪ সালের ১ মার্চ টোকিওর ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওকুমা মিলনায়তনে “বসন্তের প্যাঁচা পাঠ-আসর” নামের এক অনুষ্ঠানে মুরাকামি নিজেই “কাহো” গল্পটা পড়ে শোনান। মঞ্চে তার পাশে ছিলেন লেখক মিয়েকো কাওয়াকামি (Mieko Kawakami)। এই “প্যাঁচা” নামের পেছনে যে ইতিহাস, সেটা একটু পরেই আসছে।

গল্পটা শিনচো (Shincho) পত্রিকার ২০২৪ সালের জুন সংখ্যায় ছাপা হয়, পত্রিকার ১২০ বছর পূর্তির বিশেষ সংখ্যার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে। এর প্রথম কিস্তির ইংরেজি অনুবাদ বের হয় দ্য নিউ ইয়র্কার-এ। এরপর ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ধাপে ধাপে আরও তিন কিস্তি প্রকাশিত হয়। সেই চারটা গল্প ঘষেমেজে, বাড়িয়ে-গুছিয়ে একটা উপন্যাসের চেহারা পেল।

যে প্রশ্ন একজন নারী লেখক তুলেছিলেন

মুরাকামির নারী চরিত্র নিয়ে অসন্তোষ নতুন কিছু নয়। কয়েক দশক ধরে অভিযোগ উঠেছে, তার উপন্যাসে নারীরা প্রায়ই একঘেয়ে, প্রান্তিক, কিংবা পুরুষ নায়কের যাত্রাপথের সাজানো অনুষঙ্গ। এই অভিযোগ সবচেয়ে ধারালোভাবে, সরাসরি তুলেছিলেন মিয়েকো কাওয়াকামি নিজেই।

কাওয়াকামি নিছক ভক্ত নন। ওসাকার মেয়ে, জন্ম ১৯৭৬ সালে। লেখক হওয়ার আগে একসময় বার-হোস্টেস আর গায়িকা হিসেবে কাজ করেছেন, চালিয়েছেন তুমুল জনপ্রিয় এক ব্লগ। ২০০৮ সালে চিচি তো রান (Chichi to Ran) উপন্যাসিকার জন্য পান আকুতাগাওয়া পুরস্কার; সেই বই পরে বড় করে লেখা হয় ব্রেস্টস অ্যান্ড এগস (Breasts and Eggs) নামে, যেটা তাকে বিশ্বের পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়। তার হেভেন (Heaven) ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় উঠেছিল।

লেখায় তিনি প্রায়ই ওসাকার আঞ্চলিক ভাষা মেশান, প্রভাব হিসাবে নাম নেন জেমস জয়েস আর লিডিয়া ডেভিসের। মুরাকামি নিজেই কাওয়াকামিকে তার প্রিয় তরুণ ঔপন্যাসিক বলেছেন। কাজেই প্রশ্নটা যিনি তোলেন, তিনি কৈশোর থেকেই মুরাকামির নিবিষ্ট পাঠক, আবার সমকক্ষ লেখকও।

কাওয়াকামি ২০১৭ সালে চার দফায় বসে, ষোলো ঘণ্টা ধরে মুরাকামির এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেন, যেটা বই হয়ে বের হয় মিমিজুকু ওয়া তাসোগারে নি তোবিতাৎসু (Mimizuku wa Tasogare ni Tobitatsu) নামে। জাপানি এই নামের আক্ষরিক মানে “গোধূলিতে প্যাঁচার ওড়া”। বইটির পূর্ণাঙ্গ ইংরেজি অনুবাদ এখনও আসেনি, তবে ২০২০ সালে এর একটা অংশ ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে সাহিত্য-ওয়েবসাইট লিটারারি হাব-এ (Literary Hub) ছাপা হয়। সেখানে এর নাম করা হয় ‘দ্য আউল স্প্রেডস ইটস উইংস উইথ দ্য ফলিং অফ দ্য ডাস্ক’ (The Owl Spreads Its Wings with the Falling of the Dusk); ইংরেজি-ভাষী মহলে এর আরেক পরিচিতি “আ লং, লং ইন্টারভিউ”।

ওই নামের “প্যাঁচা”-ই কাহোর পাঠ-আসরের নামে ফিরে এসেছে। অর্থাৎ যে লেখকের সঙ্গে মুরাকামির নারী চরিত্র নিয়ে সবচেয়ে বড় তর্কটা হয়েছিল, তারই সঙ্গে একই মঞ্চে, সেই তর্কের স্মৃতিবাহী নামের নিচে, মুরাকামি প্রথমবার একজন নারীকে তার গল্পের একমাত্র কেন্দ্রে বসিয়ে পড়ে শোনালেন। বৃত্তটা কাকতালীয় নয় বলেই মনে হয়।

ওই সাক্ষাৎকার-বইয়ে কাওয়াকামি যা বলেছিলেন, তার মূল কথা এই: মুরাকামির গল্প নিয়ে, পুরুষ চরিত্র নিয়ে, এমনকি কুয়ো বা সুড়ঙ্গের মত প্রতীক নিয়ে অনেক কথা বলা হয়, অথচ নারীর বেলায় সেই একই কল্পনা যেন আটকে যায়। তার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ছিল, মুরাকামির নারীরা “নিজের মত করে, নিজের অস্তিত্বে” দাঁড়াতে পারে না। তারা বারবার পুরুষ নায়কের প্রয়োজন মেটানোর ভূমিকায় বন্দি হয়ে থাকে। যৌনতার বাহক কিংবা রহস্যের চাবিকাঠি, এর বাইরে তাদের যেন আলাদা জীবন নেই।

মুরাকামি জবাব দিয়েছিলেন সততার সঙ্গে, কিন্তু দুজনের কথা ঠিক এক জায়গায় মেলেনি। তিনি বলেছিলেন, এই কাঠামো তিনি সচেতনভাবে তৈরি করেন না, বরং “অহং”-জাতীয় ব্যাপার থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করেন। প্রশ্নটা তাই ঝুলে ছিল। কাহো সেই ঝুলে থাকা প্রশ্নের দেরিতে-আসা উত্তর কিনা, সেটাই এই বইয়ের সবচেয়ে বড় কৌতূহল।

ওই সাক্ষাৎকারের আরও কয়েকটা মুহূর্ত পাঠকমহলে বেশ সাড়া ফেলেছিল, আর প্রায় সবগুলিই মুরাকামির যুক্তির চেয়ে অন্তর্দৃষ্টির ওপর ভরসা করার স্বভাবকে ফাঁস করে দেয়। কাওয়াকামি ধরিয়ে দিয়েছিলেন, কিলিং কমেন্ডাটোরে-র প্রথম পর্বের নাম মুরাকামি রেখেছিলেন “আইডিয়ার প্রকাশ” (The Idea Made Visible), অথচ প্লেটোর আইডিয়া-তত্ত্ব বিষয়ে তিনি কার্যত কিছুই জানতেন না। উল্টা কাওয়াকামিকেই ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিতে হয়েছিল তাকে।

নিজের পুরোনো লেখা নিয়েও তার নির্লিপ্তি ছিল চমকে দেওয়ার মত। এক জায়গায় উদ্ধৃত একটা বাক্য পড়ে তার বেশ ভাল লেগেছিল, পরে খেয়াল করলেন সেটা তারই বহু বছর আগে লেখা। শুনে কাওয়াকামি বলে বসেন, মুরাকামিকে দেখে যেন মনে হয় তিনি এমন একটা অঙ্গ, গল্প যার ভেতর দিয়ে ঢুকে বেরিয়ে যায়। মন্তব্যটা হালকা শোনালেও এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে মুরাকামির গোটা লিখনপদ্ধতির চাবি।

নারীর শরীর, পুরুষের চোখ

কাওয়াকামির অভিযোগটা বিমূর্ত শোনায়, উদাহরণ টানলে ছবিটা পরিষ্কার হয়। মুরাকামির প্রায় সব উপন্যাসের কথক পুরুষ, আর জগৎটা আমরা দেখি সেই পুরুষের চোখ দিয়ে। নরওয়েজিয়ান উড-এ নাওকো আর মিদোরি, দুই নারীর মন-খারাপ, শোক, যৌনতা যেন মূল চরিত্র তোরুর বেড়ে ওঠার জ্বালানি হয়ে দাঁড়ায়। কাফকা অন দ্য শো’রে কিশোর কথকের চোখ বারবার আটকে যায় নারীর শরীরে। ১কিউ৮৪-এ সতেরো বছরের ফুকা-এরি চরিত্রটিকে বহুবার তুলে ধরা হয় তার শরীরের বর্ণনায়, আর শেষমেশ পুরুষের মুক্তির জন্য রক্ত দিতে হয় নারীকেই।

সমালোচকেরা বারবার একই ছাঁচ দেখান। রহস্যময় কোনো নারী এসে পুরুষকে যৌনতা বা আশ্রয় দেয়, তারপর মিলিয়ে যায়। স্তন, অন্তর্বাস, শরীরের গন্ধের খুঁটিনাটি বর্ণনা। ক্ষতে ভরা মেয়ে, যার কাজ শুধু নায়কের ঘা সারানো। এদের অনেকেই যেন “ম্যানিক পিক্সি ড্রিম গার্ল” (manic pixie dream girl), রহস্যটুকুই সার, ভেতরে আলাদা কোনো মানুষ নেই। সবচেয়ে বিব্রতকর আপত্তিটি আসে কম বয়সী মেয়েদের শারীরিক বিবরণ দেওয়া নিয়ে, আর এই বিষয়টি নিয়েই কাওয়াকামি সবচেয়ে সরাসরি মুরাকামিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি টেনে আনেন কিলিং কমেন্ডাটোরে-র কিশোরী চরিত্র মারিয়ে আকিগাওয়াকে, যে অচেনা কথকের সঙ্গে প্রথম দেখাতেই নিজের শরীর নিয়ে কথা তোলে। কাওয়াকামির প্রশ্ন ছিল, এই আচ্ছন্নতা এল কোথা থেকে। মুরাকামির জবাব ছিল অপ্রত্যাশিত। তার যুক্তি, একটা মেয়ে অচেনা পুরুষের কাছে নিজের শরীর নিয়ে অকপটে কথা বলছে মানেই সে লোকটাকে যৌন-দৃষ্টিতে দেখছে না; উল্টা এতে দুজনের কথাবার্তা থেকে যৌন-আবহ সরে গিয়ে আলাপ দার্শনিক দিকে মোড় নেয়। কাওয়াকামি পাল্টা বলেছিলেন, এর ঠিক উল্টা পাঠও তো সম্ভব। তর্কটা মিলেনি, কিন্তু মুরাকামির চিন্তার ধরন এতে বেশ স্পষ্ট।

কাওয়াকামি এই জায়গাতেই প্রশ্ন করেছিলেন। তার কথা, নারীকে তার শরীরের জন্য অপরাধ বোধে ভোগানোর মানে তার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা। আর বারবার পুরুষের আত্ম-উপলব্ধি কিংবা কামনার বেদিতে নারীকে বলি দিতে দেখা ক্লান্তিকর। মুরাকামির জবাব ছিল, এমন কোনো ছক তিনি ইচ্ছা করে বানান না, হয়ে থাকলে সেটা অবচেতনে, নিজের অজান্তে। পাল্টা উদাহরণও দিয়েছিলেন। আফটার ডার্ক (After Dark) উপন্যাস প্রায় পুরোটাই আগায় নারী চরিত্রদের ইচ্ছাতে; নরওয়েজিয়ান উড-এর রেইকো বা হাৎসুমির কথা ভাবলে আজও তার মন ভারি হয়ে ওঠে, এরা তার কাছে নিছক উপন্যাসের যন্ত্র নয়। শেষে বলেন, যেটা পরে বেশ আলোচিত হয়: তিনি চিন্তাবিদ নন, সমালোচক নন, সমাজকর্মীও নন, স্রেফ একজন ঔপন্যাসিক; কোনো “বাদ”-এর মাপকাঠিতে তার লেখা ত্রুটিপূর্ণ ঠেকলে তিনি সবার আগে ক্ষমা চেয়ে নেবেন। একটা কথা অবশ্য তিনি মেনে নেন, ১কিউ৮৪ লেখার সময়ই তিনি কোনো নারী চরিত্রের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছিলেন।

যৌনতা, বিক্রি আর দায়

এখানে একটা কথা সোজাসুজি বলা যাক। যৌনতা বই বিক্রির একটা উপাদান, সাহিত্যিক আবেদনের একটা অংশ, আর মুরাকামির স্বপ্নমাখা কামগন্ধ তার জনপ্রিয়তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তার বইও এই টানের বাইরে না, বরং অনেকটা এর ওপরেই দাঁড়িয়ে। এতে দোষের কিছু আছে বলে মনে হয় না। শরীর, কামনা, ঘনিষ্ঠতা সাহিত্যের বৈধ উপকরণ; মানুষের শরীর মুছে দেওয়া উপন্যাস বরং দরিদ্র হত।

সমালোচনার আসল জায়গা তাই যৌনতার উপস্থিতি নয়, দৃষ্টির অভিমুখ। একজন নারী যখন শুধু পুরুষের কামনা কিংবা আরোগ্যের উপলক্ষ হয়ে থাকে, তখনই সে মানুষ থেকে বস্তুতে নেমে আসে। ইরোটিসিজম অপরাধ নয়, নারীকে যন্ত্রে পরিণত করাটাই আপত্তির। পার্থক্য সূক্ষ্ম কিন্তু মৌলিক। নারী নিজে কামনা করছে, নাকি শুধু কামনার পাত্র হয়ে আছে, তার ওপরেই সব নির্ভর করে।

আর ঠিক এখানেই দ্য টেইল অফ কাহো-কে একটা উত্তরের চেষ্টা বলে মনে হয়। বই শুরুই হয় এক পুরুষের নিষ্ঠুর রায় দিয়ে, “তুমি কুৎসিত”। কিন্তু এবার সেই বিচারক-চোখটা লেন্স নয়, বিষয়। গল্পটা বলা হয় সেই মেয়ের ভেতর থেকে, যাকে দেখা হচ্ছে, মাপা হচ্ছে, বিচার করা হচ্ছে।

ম্যাগাজিন-সংস্করণ পড়া অনেক পাঠকের প্রতিক্রিয়াতেও এটাই ফিরে এসেছিল, লেখাটায় “লুকিজম”, অর্থাৎ পুরুষের মাপকাঠিতে নারীর রূপের বিচার, সেই অস্বস্তি প্রবলভাবে টের পাওয়া যায়। যেই বস্তু-বানানো দৃষ্টি এতদিন ছিল মুরাকামির হাতিয়ার, কাহোতে সেটাই যেন উল্টে গিয়ে হয়ে উঠেছে গল্পের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন। দেখা হচ্ছে দেখা-হওয়া মানুষটার দিক থেকে।

এই প্রথম নয়

কাহোকে ঘিরে “প্রথম নারী মূল চরিত্র” বলে যতই প্রচার হোক, নারীর ভেতর থেকে গল্প বলা মুরাকামির কাছে অচেনা নয়। ১৯৮৯ সালে লেখা ছোটগল্প “স্লিপ” (Sleep) তিনি প্রথম নারী-কণ্ঠে লিখেছিলেন। নরওয়েজিয়ান উড-এর হইচই থেকে খানিকটা পালিয়ে রোমে থাকার সময় তা লেখা। গল্পটা দ্য নিউ ইয়র্কার-এ ছাপা হয়, অনেক পাঠক ধরেই নিয়েছিল লেখক বুঝি কোনো নারী। মজার ব্যাপার, কাওয়াকামি নিজে মুরাকামির সব নারী চরিত্রের ভেতর “স্লিপ”-এর ওই ঘুমহীন নারীকেই সবার ওপরে রাখেন। একজন নারীবাদী হিসাবে এই চরিত্রই নাকি মুরাকামির লেখার প্রতি তার আস্থা গড়ে দিয়েছিল।

তাই কাহো আসলে মুরাকামির প্রথম নারী কণ্ঠ নয়, প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস যেখানে ভার পুরোটাই এক নারীর ওপর। প্রশ্নও তাই “মুরাকামি কি নারীর কণ্ঠ ধরতে পারেন” নয়। প্রশ্নটা হল, একটা পুরো উপন্যাসজুড়ে সেই কণ্ঠ তিনি ধরে রাখতে পারলেন কিনা।

মুরাকামি নিজের পদ্ধতি নিয়ে

এই জায়গায় মুরাকামির লেখার নিজস্ব দর্শনটা একবার বুঝে নেওয়া দরকার, কারণ সেটাই তার নারী-প্রশ্নের জবাব আর নতুন বইয়ের এআই-প্রসঙ্গ, দুইটাকে এক সুতায় বাঁধে।

কাওয়াকামির সঙ্গে আলাপে মুরাকামি তার উপন্যাস লেখার প্রক্রিয়াকে তিনতলা বাড়ির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। একতলা হল সবার বৈঠকখানা, যেখানে সবাই মিলে সাধারণ ভাষায় কথা বলে। তার নিচে বেজমেন্টের প্রথম তলা, ব্যক্তিগত অবচেতনের ঘর, যেখানে জাপানি “আমি-উপন্যাসের” জগৎ। আর সবচেয়ে নিচে বেজমেন্টের দ্বিতীয় তলা, যেখানে সব জাতি-গোষ্ঠীর সাধারণ পুরাণ আর কাহিনির উৎস। মনোবিজ্ঞানী কার্ল ইয়ুং যাকে বলেছিলেন সমষ্টিগত অবচেতন। মুরাকামির দাবি, তার উপন্যাস আসলে বেজমেন্টের সেই দ্বিতীয় তলার অন্ধকার থেকে গল্প টেনে তোলার কাজ। । তিনি অর্থ বা রূপক বসিয়ে দেন না, “তিনি এভাবেই লিখতে পারেন” বলে লেখেন।

আর একটা কথা তিনি বারবার বলেন: তার কাছে সবকিছুর শেষে থাকে গদ্য। চরিত্র, কাঠামো, গল্পের কল, সবই শেষমেশ বাক্যে গিয়ে মেশে। গদ্য যদি বদলাতে থাকে, নতুন হতে থাকে, তাহলে একই কথা বারবার লিখলেও সেটা নতুন গল্প হয়ে ওঠে। এই বিশ্বাস মাথায় রাখলে কাহোর মত একটা বই আর নিছক “নতুন প্লট” থাকে না, হয়ে ওঠে চেনা যন্ত্রে নতুন এক স্বর বসানোর পরীক্ষা।

এআই প্রসঙ্গে যা বললেন

বই বেরোনোর দিন সংবাদ সংস্থা কিয়োদোকে (Kyodo News) দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুরাকামি সরাসরি টেনে আনলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) কথা। এখন তো এই প্রযুক্তি দিয়েই উপন্যাস লিখে ফেলা যায়। মুরাকামির মতে, এআই এযাবৎ ঘটে যাওয়া সবকিছুর হিসাব রেখে সাদৃশ্য টানে, একটা থেকে আরেকটা মিলিয়ে নেয়। কিন্তু তিনি যেভাবে লেখেন, প্রক্রিয়াটা তার থেকে একেবারে আলাদা। ঔপন্যাসিকের আসল কাজ তার কাছে অন্য জায়গায়, হঠাৎ মাথায় ঝিলিক দিয়ে ওঠা একটা নতুন কিছুকে টেনে বের করে আনা।

তার ওই “বেজমেন্টের দুই তলা”-র রূপক মনে রাখলে কথাটা আরও স্পষ্ট হয়। যন্ত্র পুরোনো তথ্যের ভাণ্ডার ঘেঁটে সম্ভাবনার হিসাব কষে; মুরাকামির দাবি, লেখক নামেন অবচেতনের অন্ধকারে, যেখান থেকে উঠে আসে এমন কিছু যার কোনো পূর্বনজির নেই। পার্থক্যটা তিনি ঠিক এখানেই টানছেন। যে লেখক নিজের সৃষ্টিকে বারবার “অবচেতন থেকে উঠে আসা” বলে বর্ণনা করেন, তার জন্য এআইয়ের অ্যালগরিদম আর মানুষের কল্পনার ফারাক তাই একটা মৌলিক প্রশ্ন, নিছক প্রযুক্তির তর্ক নয়।

অন্য চোখে দেখা জগৎ

একই দিনে আসাহি শিমবুনকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে এই সুর আরও ব্যক্তিগত। মুরাকামি বললেন, এই বই লেখার সময় তার মনে হয়েছে, রোজকার চেনা চোখের বদলে অন্য এক জোড়া চোখ দিয়ে তিনি পৃথিবী দেখছেন। একজন নারী জগৎকে কীভাবে দেখে, সেটা তো তিনি কেবল কল্পনাই করতে পারেন। কিন্তু কাফকা অন দ্য শোর-এ তো তিনি পনেরো বছরের এক কিশোরের চোখ দিয়েই দুনিয়া দেখেছিলেন। সেই অর্থে, ঔপন্যাসিক আসলে যা খুশি হয়ে উঠতে পারে।

কাহো চরিত্রের পেছনে একটা বাস্তব প্রভাবের কথাও খোলাখুলি বললেন তিনি। এই উপন্যাস লেখার আগে তিনি কিছুদিন কাটিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলেসলি কলেজে, যেটা নারীদের কলেজ। সেখানকার পরিবেশ, নারীর দৃষ্টিভঙ্গিকে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেই আবহটাই নাকি কাহোর ওপর ছাপ ফেলেছে। মুরাকামি আরও একটা মজার কথা বলেন: বাবা-মা আর সন্তানের সম্পর্ক নিয়ে লিখতে তার কোনোকালেই ভাল লাগেনি। তবু প্রতিবার উপন্যাস লিখতে বসলে আগে করেননি এমন কিছু চেষ্টা করার একটা তাড়না তার ভেতরে কাজ করে।

অসুস্থতার পর, “ফিরে আসা”

এই ফেরার গল্প অবশ্য আরও আগে থেকে শুরু। গত ফেব্রুয়ারিতে নিউ ইয়র্ক টাইমস মুরাকামিকে নিয়ে একটা প্রোফাইল ছাপে, সাংবাদিক আলেকজান্দ্রা অল্টারের লেখা। সেখানেই জানা যায়, গত বছর গুরুতর অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার পরই তিনি এই উপন্যাসের বড় অংশটা লিখেছেন। এক মাস হাসপাতালে কাটাতে হয়েছিল, ওজন কমে গিয়েছিল প্রায় ৪০ পাউন্ড। রোগ নিয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি।

মুরাকামি সাধারণত দিনে ঘণ্টাখানেক দৌড়ান। অথচ অসুখের সময় হাঁটতেও তার কষ্ট হচ্ছিল। অসুস্থতা যখন তীব্র, তখন লেখার কোনো ইচ্ছাই জাগেনি। সেরে ওঠার পর যখন দেখলেন তাগিদটা এখনও মরে যায়নি। এতে স্বস্তি পেয়েছিলেন। নতুন উপন্যাস লেখাকে তিনি বলেছেন একরকম পুনরুত্থান, যেন তিনি ফিরে এসেছেন। সেই সাক্ষাৎকারেই বলেন, এবারের গল্প তার আগের কাজগুলির চেয়ে বেশি আশাবাদী মনে হয়েছে তার কাছে। নারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখাটা নতুন হলেও কাজটা করতে গিয়ে অবাক করার মত স্বাভাবিক লেগেছে।

মাঝরাতের ভিড়, সকাল আটটার দোকান

প্রকাশক আর বইয়ের দোকানগুলি এই উন্মোচনকে রীতিমত উৎসব বানিয়ে ফেলেছে। শিনচোশা (Shinchosha) দেশজুড়ে প্রায় তিন হাজার দোকানে প্রথম মুদ্রণের সঙ্গে বিশেষ স্টিকার বিলি করেছে, একটায় পিঁপড়েভুক, একটায় জ্যাগুয়ার, বইয়েরই দুই রহস্যময় চরিত্র। সীমিত সংখ্যক, ফুরিয়ে গেলে শেষ।

টোকিওর তোরানোমনে মারুজেন জুনকুদোর “ম্যাগমাবুকস” দোকান সেদিন নিয়মিত সময়ের তিন ঘণ্টা আগে, সকাল আটটায় খুলেছে, শুধু যারা একটু আগেভাগে বইটা হাতে পেতে চান তাদের জন্য। দোকান খুলতেই ঢুকে পড়া এক পাঠক বই কিনে পাশের পড়ার জায়গায় বসে পড়া শুরু করে দিলেন। জানালেন, দুপুরে অফিস, তাই কাজে যাওয়ার আগেই পড়ে নিতে এসেছেন। তিন বছর পর নতুন বই হাতে পেয়ে তার মনে হচ্ছিল যেন ছেলেবেলায় ফিরে গেছেন।

ভক্তদের ভেতর নানা প্রজন্ম আছে। কেউ মুরাকামির সব বই প্রথম সংস্করণে সংগ্রহ করেন, তার ভাষায় সতেরো বছর বয়সে নরওয়েজিয়ান উড যখন বেস্টসেলার হল, তখন থেকেই লেখকের সঙ্গে তার প্রজন্মটা এভাবে জড়িয়ে গেছে। আরেকজন কলেজজীবনে হার্ড-বয়েল্ড ওয়ান্ডারল্যান্ড (Hard-Boiled Wonderland) পড়ে ভক্ত বনে গিয়েছিলেন, তার ভাল লাগে মুরাকামির শব্দ বেছে নেওয়ার যত্নটা। জাপানে এই ভক্তদের আলাদা একটা নামই আছে—”হারুকিস্ট”।

এক পাঠক-চক্রের চার বন্ধু একসঙ্গে এসেছিলেন কিনোকুনিয়ার আয়োজনে। তেত্রিশ বছরের অফিসকর্মী তাকুমি হাশিমোতো বলেন, ম্যাগাজিনের ধারাবাহিক থেকে গল্প কীভাবে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসে দাঁড়াল, সেটাই দেখতে চান। তার সঙ্গী মিজুকি শিরোতাকে ম্যাগাজিন-সংস্করণেই টেনেছিল মুরাকামির নারী চরিত্রের অনুভূতি ফুটিয়ে তোলার ধরন। তার মতে, লেখায় “লুকিজম”, অর্থাৎ একজন নারীকে পুরুষের চোখে কীভাবে বিচার করা হয়, সেই অস্বস্তিটা প্রবলভাবে টের পাওয়া যায়। বই হাতে পেয়ে দলটা সোজা চলে গেল চব্বিশ ঘণ্টা খোলা এক ক্যাফেতে, তক্ষুনি পড়া শুরু করতে।

সমালোচকের চোখে

বই বের হওয়ার আগেই সূচনা-অংশ পড়ে অনেক পাঠক-সমালোচক ব্লগে একটা কথাই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বলেছেন: সবার আগ্রহ আসলে একটা জায়গায়, মুরাকামি এবার তার পুরোনো সমালোচনার জবাব কীভাবে দেন। পুরুষের কদর্যতাকে উন্মোচন করবেন, নাকি চিরচেনা নির্লিপ্ত ভঙ্গিতেই থেকে যাবেন।

সাহিত্য-সমালোচক তাকাজাওয়া শুজি (Takazawa Shuji), যিনি নাকাগামি কেনজি থেকে ইতো জুন পর্যন্ত বহু লেখকের জীবনীকৃতি লিখেছেন, তোয়ো কেইজাই অনলাইনে (Toyo Keizai Online) বইয়ের একটা পর্যালোচনাও করেছেন। তার মতে, দ্য সিটি অ্যান্ড ইটস আনসার্টেইন ওয়ালস কিংবা কিলিং কমেন্ডাটোরে (Killing Commendatore)-র মত ভারি, পূর্ণাঙ্গ কাঠামোর উপন্যাস এটা নয়। বরং সহজপাঠ্য একটা ছিমছাম কাজ, যা সাতাত্তরে পৌঁছেও মুরাকামির সচল কলমের প্রমাণ। তাকাজাওয়ার একটা মন্তব্য আলাদা করে খেয়াল করার মত। “প্রথম একক নারী মূল চরিত্র” বলে যে প্রচারণা, সেটাই আসলে এই বইয়ের আসল কথা নয়, মূল বিষয়টা অন্য কোথাও। স্পয়লার এড়াতে তিনি সেটা খোলাসা করেননি।

সাধারণ পাঠকের প্রতিক্রিয়াও মিশ্র। কেউ কেউ বলছেন এটা যেন একগুচ্ছ সংযুক্ত ছোটগল্পের সংকলন, ষোলো আনা মুরাকামি-স্বাদের। অনলাইনে কারও কারও আপত্তি, কাহোকে ঘিরে থাকা পার্শ্বচরিত্রগুলি তেমন আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেনি। আবার কেউ মুসাশি-সাকাই স্টেশনের মত ছোট ছোট বিশদে মজা পেয়েছেন। সাইবু তামাগাওয়া লাইনের এই শেষ স্টেশনটা মাঝপথে অন্য কোনো লাইনের সঙ্গে মেশে না, আর অনেকের চোখে সেটাই যেন বাস্তব আর কল্পনার জগতের সংযোগস্থল। ধারাবাহিক পড়ে আসা এক পাঠক আবার জানিয়েছেন, তৃতীয় অধ্যায়ে কাহোর মায়ের আচরণ বদলে যায়, যেন উইপোকার রানি তাকে দখল করে নিয়েছে, আর কাহো তখন সাহায্য চাইতে যায় সেই পিঁপড়েভুকের কাছে।

যে প্রশ্ন খোলা থেকে যায়

জাপানি সংস্করণ তো হাতে এল। কিন্তু ইংরেজি অনুবাদের কোনো পরিকল্পনা এখনও প্রকাশক জানায়নি, ফলে ইংরেজিভাষী পাঠককেও অপেক্ষা করতে হবে। দ্য সিটি অ্যান্ড ইটস আনসার্টেইন ওয়ালস জাপানে বেরিয়েছিল ২০২৩ সালের এপ্রিলে, ইংরেজি অনুবাদ এল ২০২৪ সালের নভেম্বরে, মাঝে গড়িয়ে গেল প্রায় উনিশ মাস। সেই মাপকাঠিতে কাহোর ইংরেজি রূপ ২০২৮ নাগাদ আসতে পারে, তবে এটা নিছক আন্দাজ।

আসল কৌতূহল অবশ্য অনুবাদের সময়সূচি নিয়ে নয়। কাওয়াকামি একদিন প্রশ্ন তুলেছিলেন, মুরাকামির নারীরা কি কখনও নিজের অস্তিত্বে দাঁড়াতে পারবে। সেই প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে সাতাত্তর বছরের লেখক এবার প্রথমবার একজন নারীর ভেতর থেকে গল্প বলার ঝুঁকি নিলেন। কুৎসিত বলে অপমানিত এক সাধারণ মেয়ে, যে রাগে না, বরং কৌতূহলী হয়ে ওঠে। এই মেয়ে কি সত্যিই নিজের চোখে জগৎ দেখে, নাকি আরও একবার মুরাকামির অবচেতনের সিঁড়ি বেয়ে নামার অজুহাত হয়ে থাকে, তার মীমাংসা পাঠকের হাতেই। মুরাকামির চেনা জগৎ, শুধু এবার দেখা যাচ্ছে নতুন এক জোড়া চোখ দিয়ে।

তথ্যসংগ্রহ ও খসড়া: এআই; প্রম্পট ও সম্পাদনা: ব্রাত্য রাইসু
বই দ্য টেল অফ কাহোমুরাকামি

Post navigation

Previous post

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Categories

উপন্যাস

লুসিয়াস আপুলিয়াস এর ‘মেটামরফোসিস’ অথবা ‘দ্য গোল্ডেন অ্যাস’

সম্পাদক: ব্রাত্য রাইসু

©2026 সাহিত্য ডটকম | WordPress Theme by SuperbThemes

Terms and Conditions - Privacy Policy