এই শরতে চীনের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরে নতুন একটা বই হাতে পেয়েছে, শার্লট ব্রন্টির ‘জেন আয়ার’। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের শরৎ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশজুড়ে নবম শ্রেণিতে পুরো উপন্যাসটি পড়া বাধ্যতামূলক। ঠাঁই পেয়েছে প্রথম সেমিস্টারের চীনা ভাষা ও সাহিত্য (ইউওয়েন) পাঠ্যবইয়ের চতুর্থ ইউনিটের পরের ‘সম্পূর্ণ বই পাঠ’ অংশে। জেন আয়ার বেরিয়েছিল ১৮৪৭ সালে। এক ভিক্টোরীয় ইংরেজ উপন্যাস, বয়স ১৭৯ বছর।
চীনে ‘জেন আয়ার’ নতুন নয়। বহু দশক ধরে জনপ্রিয়, অনুবাদ-মঞ্চ-চলচ্চিত্র সবই হয়েছে। নতুন শুধু একটাই। এবার গোটা উপন্যাস ১৪ বছরের কিশোর-কিশোরীর নির্ধারিত পাঠ। আর ঠিক এখানেই প্রশ্নটা জাগে। কারণ ‘জেন আয়ার’ একটাই বই, অথচ পড়া যায় অন্তত দুভাবে। আর কোন পাঠটাকে রাষ্ট্র সামনে আনতে চায়, সেটাই আসল গল্প।
আগে গল্পটা
জেনের গল্পটা মনে করানো যাক। শৈশবেই বাবা-মা হারানো এক মেয়ে, আত্মীয়ের বাড়িতে বড় হয়; সেখানে জোটে অবহেলা আর দুর্ব্যবহার। তারপর লোউড নামের এক আবাসিক স্কুল, কঠিন পরিবেশ, শিক্ষা আর শৃঙ্খলা। পড়াশোনা শেষে জেন শিক্ষকতা নেয়, পরে থর্নফিল্ড হলে গভর্নেস হিসাবে যোগ দেয়। বাড়ির মালিক এডওয়ার্ড রচেস্টারের সঙ্গে ধীরে ধীরে প্রেম।
তারপরই মোড় ঘোরে। বিয়ের আয়োজনের মধ্যে জেন জানতে পারে, রচেস্টারের স্ত্রী আগে থেকেই আছে। বার্থা মেসন, জীবিত, বাড়ির এক কোণে গোপনে বন্দি। রচেস্টার তাকে থেকে যেতে বলে; জেন রাজি হয় না। সে রচেস্টারকে ভালবাসে, তবু নিজের মর্যাদা বিকিয়ে দিতে চায় না। তাই থর্নফিল্ড ছেড়ে চলে যায়। পরে উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদ পেয়ে আর্থিকভাবে স্বাধীন হয়। এদিকে থর্নফিল্ড হলে আগুন লাগে, বার্থা মারা যায়, জেনকে বাঁচাতে গিয়ে রচেস্টার দৃষ্টিশক্তি হারান। শেষে জেন ফেরে, বিয়ে করে রচেস্টারকে। কিন্তু এবার সম্পর্কের পাল্লা আর আগের মত নয়; সে ঢোকে নিজের সম্পদ আর নিজের সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা নিয়ে।
এই শেষটুকুই যত কথার মূল। কারণ একই পরিণতি থেকে দুটি আলাদা শিক্ষা টেনে নেওয়া যায়।
রাষ্ট্র কোন জেনকে চায়
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র বেইজিং ডেইলি কোন শিক্ষাটা পড়ছে, তা ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর এক সম্পাদকীয়তে মোটামুটি পরিষ্কার। নতুন বইয়ে জেন আয়ার জোড়া হয়েছে ‘বেড়ে ওঠা’ নামের একটা ইউনিটের সঙ্গে। এখানে বেড়ে ওঠা মানে শুধু বয়স বাড়া নয়, কঠিন পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে স্বাধীন, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন আর দায়িত্বশীল একজন মানুষ হয়ে ওঠা। জেনের জীবন সেই বেড়ে ওঠারই একটা পূর্ণাঙ্গ ছবি।
পত্রিকার যুক্তিটা আজকের দিকেই তাক করা। কিশোর বয়সে প্রেম নিয়ে কৌতূহল জাগে। এটা এড়িয়ে না গিয়ে বরং শেখানো ভাল, ভালবাসার ভেতরেও সমতা, সম্মান আর আত্মমর্যাদা কীভাবে টেকে। আর এর একটা স্পষ্ট প্রতিপক্ষ আছে বেইজিং ডেইলির চোখে: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ছোট ভিডিও, অনলাইন উপন্যাস আর মাইক্রোড্রামার প্রেম। সেখানে সম্পর্কের কেন্দ্রে বসে সম্পদ, চেহারা, ক্ষমতাবান পুরুষ, প্রতিশোধ, বিলাসিতা। জেনের গল্প তার উল্টা মেরুতে দাঁড়িয়ে: আত্মমর্যাদা, ব্যক্তিত্ব, পারস্পরিক সম্মান।
এই পাল্টা-আখ্যান শুধু পাঠ্যবইয়ে থেমে নেই। সিএনএনের ১৬ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন বলছে, ২০২৬ সালের জুনে চীনের সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে ‘বিকৃত’ ধারণা ছড়ানো নিম্নমানের কনটেন্টের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে; নজরে পড়ে অনলাইন মাইক্রোড্রামা আর কিছু জনপ্রিয় ধারার উপন্যাস। এক দিকে নিয়ন্ত্রণ, আরেক দিকে বিকল্প। জেন আয়ার সেই বিকল্পের সাহিত্যিক মুখ।
উনিশ শতকের সেই মেয়ে
কিন্তু এই বিকল্পটা কি রাষ্ট্র যতটা পোষ-মানা ভাবছে, ততটাই নিরীহ? জেনের জোরটা বুঝতে হলে একটু পেছনে তাকাতে হয়।
‘জেন আয়ার’ বেরিয়েছিল ভিক্টোরীয় যুগে, যখন ইংল্যান্ডে নারীর সামাজিক, আইনি আর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পুরুষের তুলনায় অনেক কম; বিবাহিত নারীর সম্পত্তি আর অধিকারে কড়া সীমা। এমন সময়ে এক দরিদ্র অনাথ তরুণী নিজের ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধি আর নৈতিক অবস্থানকে আঁকড়ে ধরছে, সেটা সহজ ছিল না। জেন ভালবাসার অপেক্ষায় বসে থাকে না; পড়ে, কাজ করে, নিজের জীবিকা নিজে জোগায়, অন্যায় সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসে। রচেস্টার ধনী ও ক্ষমতাবান, তবু সে নিজেকে তার চেয়ে ছোট ভাবে না। বিখ্যাত এক জায়গায় রচেস্টারকে সে বলে, সম্পদ-পরিচয়-চেহারায় কম হলেও আত্মা আর হৃদয়ে সে কারও চেয়ে কম নয়।
এই জেনকে একটা আদর্শ নববধূর ছাঁচে ঢেলে ফেলা কঠিন। আর উপন্যাসের সমস্যাজনক দিকও আছে, বিশেষ করে বার্থা মেসন। রচেস্টারের প্রথম স্ত্রীকে দেখানো হয়েছে উন্মাদ, বিপজ্জনক নারী হিসাবে, আটকে বাড়ির চিলেকোঠায়; এভাবে দেখানোর সঙ্গে ঔপনিবেশিক মনোভাবের যোগও আছে।
চীনে জেনের দীর্ঘ পথ
চীনে অবশ্য জেন একদিনে আসেনি। ব্রিটিশ লাইব্রেরির গবেষণা বলছে, ১৯২৫ সালে সাংহাইয়ে ঝৌ শৌজুয়ান প্রথম উপন্যাসটির একটা চীনা সংস্করণ বের করেন; তবে সেটা পূর্ণ অনুবাদ নয়, ছেঁটে বানানো মূলত একটা প্রেমের গল্প। ১৯৩৫ সালে উ গুয়াংজিয়ানের আরেকটা সংক্ষিপ্ত অনুবাদ; প্রায় একই সময়ে লি জিয়ে পুরো উপন্যাসটা ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ করেন। মানে, প্রথম চীনা অনুবাদ ১৯২৫-এর, কিন্তু প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ নয়।
এরপর ১৯৭৯ সালে চীনের পর্দায় আসে এক ব্রিটিশ চলচ্চিত্ররূপ, সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পর দেশ যখন আবার বাইরের দিকে খুলছে, তখন। পরের বছর, চীনা সংবাদমাধ্যমের ভাষ্যে, সাংহাই ট্রান্সলেশন পাবলিশিং হাউস থেকে ঝু ছিংইংয়ের অনুবাদ বের হয়; প্রথম মুদ্রণই প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার কপি, যদিও এটিও চীনা ভাষায় প্রথম অনুবাদ নয়। বইটি কতটা পড়া হয়েছে, এই সংখ্যাই তার সাক্ষী। নানা সময়ে নানা পাঠক এর ভেতর খুঁজে নিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন মানে; কারও কাছে প্রেম, কারও কাছে নারীর স্বাধীনতা, কারও কাছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।
সাহিত্যের বাইরের আরেকটা হিসাব
এ পর্যন্ত গল্পটা মোটামুটি সাহিত্যের। কিন্তু পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম আর কিছু গবেষক আরেকটা হিসাব সামনে এনেছেন, যেটা সাহিত্যের বাইরে।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগোর সাহিত্যের অধ্যাপক পিং ঝু নিউইয়র্ক টাইমস-কে বলেছেন, জেন আয়ারকে এখন পাঠ্যবইয়ে তোলার পেছনে চীনের জনসংখ্যা পরিস্থিতি আর পরিবার-নীতির ছায়া আছে। তার পড়াটা এরকম: রাষ্ট্র এমন এক নারীর ছবি চায়, যে শিক্ষিত, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেয়, অথচ শেষমেশ চেনা বিয়ে আর পরিবারের ছকেই থিতু হয়।
কেন এই পড়া? কারণ চীনের জনসংখ্যা কমছে ২০২২ সাল থেকে। জন্মহারের পতন, বিয়েতে অনীহা, বিয়ের বয়স পিছিয়ে যাওয়া, সরকার এগুলিকে দেখছে বড় সমস্যা হিসাবে। একসময় যে দেশ এক সন্তান নীতি চাপিয়েছিল, সে এখন দুই-তিন সন্তানের নীতি এনে, আর্থিক সুবিধা আর প্রচার দিয়ে পরিবার গড়তে উৎসাহ দিচ্ছে। এই আবহে জেন আয়ার ভারি কাজের: নায়িকা স্বাধীনচেতা, তবু বিয়ে করে। ফলে স্বাধীনতা আর পরিবারকে আর পরস্পরের শত্রু বানাতে হয় না।
জেন কি অত সহজে বশে আসে?
এখানেই তবে একটা কাঁটা আছে, যেটা রাষ্ট্রীয় পাঠে চট করে চাপা পড়ে যায়।
জেন প্রথমবার রচেস্টারকে ছাড়ে ঠিক এই কারণে যে তার স্ত্রী জীবিত; এমন কোনো সম্পর্কে সে থাকবে না, যেখানে নিজের মর্যাদা প্রশ্নের মুখে পড়ে। সে ফেরে অনেক পরে, যখন উত্তরাধিকারের সম্পদে সে নিজেই স্বাধীন। অর্থাৎ বিয়েটা তার কাছে নিরাপত্তার খোঁজ নয়, নিজের শর্তে বেছে নেওয়া একটা সিদ্ধান্ত। শর্তটাই আসল।
পিং ঝু নিজেও নিউইয়র্ক টাইমস-এ বলেছেন, উপন্যাসের নারীবাদ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বহুদিনের চেনা ‘নারীর সমতা’র ধারণার সঙ্গে মেলে ঠিকই, কিন্তু # MeToo কিংবা বিয়ে-সন্তান না-নেওয়ার পক্ষে দাঁড়ানো নতুন নারীবাদের সঙ্গে তার বনিবনা নেই। ভারতের দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক সম্পাদকীয়ও একই টানাপোড়েনে আঙুল রেখেছে: জেনের বিয়ে গ্রহণযোগ্য হয়েছে একটামাত্র শর্তে, সে যখন নিজের মর্যাদা আর স্বাধীনতা অক্ষত রেখে সম্পর্কটা বেছে নিতে পেরেছে। এই শর্তটা মুছে ফেললে জেন আর জেন থাকে না।
যারা পড়ছে
আর যাদের হাতে বইটা, তারা কি রাষ্ট্রের পড়াটাই তুলে নিচ্ছে? ততটা সরল নয় ব্যাপারটা। বেইজিং ডেইলির প্রতিবেদনেই নানা স্কুলে পাঠচক্রের কথা আছে, সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মন্তব্য। কেউ বলছে প্রেমে দুজনের মানসিক বিকাশের গতি কাছাকাছি হওয়া দরকার, কেউ ভিক্টোরীয় সমাজের প্রেক্ষাপটে রচেস্টারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে এক মা লিখেছেন, তার ছেলের প্রশ্ন ছিল, জেন আয়ার পড়িয়ে কি মেয়েদের শেখানো হচ্ছে, প্রেমের কাছে বিচারবুদ্ধি হার মানুক? ছেলেটি বুঝে উঠতে পারেনি, জেন কেন অন্ধ হয়ে যাওয়া একজনকে বিয়ে করতে চায়।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমস-এ চীনা পাঠক ভিকি লি আর ওয়াং সুরুই জোর দিয়েছেন জেনের সাহস আর নিজের মূল্যবোধে অটল থাকার ওপর। পিং ঝুর কথাটা এখানে মোক্ষম: সাহিত্যের মানে একটামাত্র ব্যাখ্যায় বাঁধা থাকে না, আর পাঠক শেষ পর্যন্ত কী নেবে, রাষ্ট্রও তা পুরোপুরি ঠিক করে দিতে পারে না।
সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী ইয়ান হাইরং সিএনএনকে আরেকটা জরুরি কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। বার্থা মেসনকে যেভাবে উন্মাদ, বিপজ্জনক নারী বানিয়ে চিলেকোঠায় আটকে রাখা হয়, তার ভেতর পুরুষতান্ত্রিক আর ঔপনিবেশিক ধারণা লুকিয়ে আছে। উপন্যাসটা যদি শুধু ভালবাসা আর আত্মত্যাগের গল্প হিসাবে পড়ানো হয়, এই দিকগুলি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগই থাকে না। তার কথায়, কোনো ক্লাসিককে পাঠ্যবইয়ে রাখা মানে তার সব ধারণা মেনে নেওয়া নয়; আসল কাজ শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন তুলে, যাচাই করে পড়তে শেখানো।
শুধু একটা উপন্যাস নয়
জেন আয়ারও একা আসেনি। সিএনএন বলছে, এবারের নতুন বইয়ে নবম শ্রেণির চীনা ভাষার পাঠ থেকে সৃজনশীল চিন্তা নিয়ে একটি প্রবন্ধ বাদ পড়েছে, যোগ হয়েছে সমাজতান্ত্রিক নির্মাতা ও উত্তরসূরি গড়া নিয়ে নতুন পাঠ, আর চীনের ক্রীড়া-মহাকাশ সাফল্যের গল্প। পূর্ণাঙ্গ বই পাঠের তালিকায় জেন আয়ারের পাশে এসেছে ‘তাং কবিতার তিনশ’ নামের ধ্রুপদি চীনা কবিতা-সংকলনও। পাঠ্যবই তাই নিছক ভাষা-সাহিত্য শেখানোর জিনিস নয়; রাষ্ট্র কোন ইতিহাস, কোন মূল্যবোধ, কোন পরিচয়কে এগিয়ে রাখতে চায়, সেটারও একটা আয়না।
তাহলে চীন আসলে কী শেখাতে চাইছে? সৎ উত্তরটা হল, একটা নয়, কয়েকটা জিনিস একসঙ্গে। ভালবাসা আর আত্মমর্যাদা নিয়ে কিশোর-কিশোরীদের ভাবানো; অনলাইন প্রেমের ফাপা ছবির বদলে একটা মেপে দেখা বিকল্প; কম জন্মহারের দিনে বিয়ে আর পরিবারের একটা ইতিবাচক ছবি; আর নারীস্বাধীনতার এমন এক পাঠ, যা প্রচলিত পরিবারের সঙ্গে খাপ খায়।
তবে এর সবটাকে সরকারের ঘোষিত উদ্দেশ্য বলা যায় না। প্রেম আর আত্মমর্যাদার ব্যাখ্যাটা বেইজিং ডেইলির প্রকাশিত অবস্থান; জন্মহার আর নারীনীতির যোগটা পিং ঝুর মত গবেষকের রিডিং। পাঠ্যবইয়ে জেনকে তোলার পেছনে জন্মহার বাড়ানোর কোনো সরাসরি সরকারি নির্দেশ কোথাও লেখা নেই।
শেষ পর্যন্ত মজাটা এখানেই। জেন আয়ার একই সঙ্গে সেই নারীর গল্প, যে মর্যাদা না খুইয়ে ভালবাসা আর পরিবার বেছে নেয়; আবার সেই নারীরও গল্প, যে পুরুষের অর্থ বা ক্ষমতার ওপর ভর না করে নিজের জীবন নিজে গড়ে। রাষ্ট্র প্রথম পাঠটাকে সামনে রাখতেই পারে। কিন্তু বইটা মন দিয়ে পড়লে দ্বিতীয় পাঠটা এড়ানো যায় না, আর ঠিক এখানেই রাষ্ট্রের হাতের নাগাল ফুরিয়ে আসে।
তথ্যসংগ্রহ ও খসড়া: এআই; প্রম্পট ও সম্পাদনা: সাহিত্য ডেস্ক
