“মানুষের মস্তিষ্ক প্যারাসুটের মত। এটি তখনই কাজ করে, যখন এটি খোলা থাকে।” — ফ্রাঙ্ক জাপ্পা
এই ছোট্ট লাইনটি আজও ইন্টারনেটে খুব জনপ্রিয়। ফেসবুক, লিংকডইন, উদ্ধৃতির বই—সবখানেই এটি দেখা যায়। কথাটি সত্যিই ফ্রাঙ্ক জাপ্পা বলেছিলেন কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে কেন এই লাইন তার নামের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে, সেটা বুঝতে হলে আগে মানুষটিকে চিনতে হবে। কারণ খোলা মনে চিন্তা করার ব্যাপারটি আমেরিকান গায়ক ও সুরকার ফ্রাঙ্ক জাপ্পার জীবন ও কাজের সঙ্গে দারুণভাবে মিলে যায়।
এক অদ্ভুত শৈশব
ফ্রাঙ্ক জাপ্পার (Frank Zappa) জন্ম ১৯৪০ সালে আমেরিকার বাল্টিমোর শহরে। বাবা ফ্রান্সিস ছিলেন সিসিলি থেকে আসা অভিবাসী, পেশায় গণিতজ্ঞ ও রসায়নবিদ। কাজ করতেন আমেরিকান প্রতিরক্ষা দপ্তরে। সেই সূত্রে পরিবারটা বারবার এক শহর থেকে আরেক শহরে বদলেছে। একটা সময় তাঁরা থাকতেন এডজউড আর্সেনাল নামের জায়গায়, যেখানে রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে গবেষণা হতো। ছোট ফ্রাঙ্ক জানলার পাশে দাঁড়িয়ে দেখতেন সেনাবাহিনীর ট্রাক যাচ্ছে আসছে। গ্যাস মাস্ক ছিল ঘরের ভেতরে, খেলনার মতো। জাপ্পা নিজেই পরে এই শৈশবের কথা বারবার বলেছেন। কীভাবে রাসায়নিক যুদ্ধের অস্বস্তি তাঁর শিল্পী-মনের একটা স্থায়ী অংশ হয়ে গিয়েছিল।
উদ্ধৃতি ও বক্তা
পরে পরিবার চলে যায় ক্যালিফোর্নিয়ায়। সেখানেই কিশোর জাপ্পা নিজে নিজে ড্রাম ও গিটার শেখেন। স্কুলের পড়াশোনায় তিনি খুব ভাল ছিলেন না, কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতেন গ্রন্থাগারে।
বিশেষভাবে তাকে টেনেছিল ফরাসি-আমেরিকান সুরকার এডগার্ড ভ্যারেস-এর কাজ। ভ্যারেসের সঙ্গীতে প্রচলিত সুরের চেয়ে শব্দের গঠন ও অদ্ভুত ধ্বনির ব্যবহার বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পনেরো বছর বয়সে জাপ্পা টাকা জমিয়ে তার একটি রেকর্ড কেনেন। পরে তিনি বলেন, সেটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রভাবগুলির একটি।
গান, ব্যান্ড, ও The Mothers of Invention
১৯৬৪ সালে জাপ্পা স্থানীয় ব্যান্ড The Soul Giants-এ যোগ দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যান্ডটির নেতৃত্ব তার হাতে চলে আসে। পরে তিনি নাম বদলে রাখেন The Mothers of Invention।
১৯৬৬ সালে বের হয় তাদের প্রথম অ্যালবাম Freak Out!। এটি ছিল রক সঙ্গীতের ইতিহাসের প্রথম দিককার ডাবল অ্যালবামগুলির একটি। অ্যালবামটিতে এমন সব অদ্ভুত শব্দ, কোলাজ ও সাউন্ড-এক্সপেরিমেন্ট ছিল, যা তখনকার শ্রোতাদের কাছে একেবারেই নতুন মনে হয়েছিল।
অনেকের মতে, এই অ্যালবাম থেকেই পরে The Beatles অনুপ্রাণিত হয়েছিল Sgt. Pepper’s Lonely Hearts Club Band তৈরিতে। জাপ্পা অবশ্য এ নিয়ে মজা করে বলেছিলেন, Beatles তার কাছ থেকে ধার নিয়েছে, কিন্তু আর ফেরত দেয়নি।
৩০ বছরের সঙ্গীতজীবনে জাপ্পা ষাটের বেশি অ্যালবাম প্রকাশ করেন। রক, জ্যাজ থেকে শুরু করে অর্কেস্ট্রাল সঙ্গীত—সব ধরনের সুরেই তিনি স্বচ্ছন্দ ছিলেন। তার ব্যান্ডে কাজ করেছেন এমন অনেক সংগীতশিল্পী পরে বড় তারকা হয়ে ওঠেন, যেমন স্টিভ ভাই, অ্যাড্রিয়ান বেলিউ, টেরি বোজিও।
সঙ্গীতমহলে একটা কথাও চালু ছিল—জাপ্পার ব্যান্ডে কাজ করা মানে যেন “জাপ্পা ইউনিভার্সিটি” থেকে ডিগ্রি পাওয়া। কারণ তার রিহার্সাল ছিল কঠোর ও পরিশ্রমসাধ্য। কিন্তু যারা টিকে থাকতে পারতেন, তারা সঙ্গীত সম্পর্কে অসাধারণ অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা নিয়ে বের হতেন।
নেশার যুগে ব্যতিক্রমী এক রকস্টার
ষাটের দশকের আমেরিকান রক সংস্কৃতি মানেই ছিল মাদক, পার্টি আর আত্মবিধ্বংসী জীবনযাপন। সেই সময়ের বহু বিখ্যাত সংগীতশিল্পী—যেমন জিমি হেন্ড্রিক্স বা জিম মরিসন—মাদকের কারণে অকালেই মারা যান।
কিন্তু জাপ্পা ছিলেন একেবারেই আলাদা। তিনি জীবনে মদ ছোঁননি, হার্ড ড্রাগ নেননি, এমনকি গাঁজাও খুব কম ব্যবহার করেছেন। শুধু নিজে দূরে থাকতেন না, তার ব্যান্ডের কেউ হেরোইন, কোকেন বা অন্য মাদক নিলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে বের করে দিতেন।
জাপ্পা বিশ্বাস করতেন, নেশা মানুষকে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারাতে বাধ্য করে। আর তিনি সবসময় নিজের মাথা পরিষ্কার ও সচেতন রাখতে চাইতেন।
তবে এখানেই একটা মজার দ্বৈততা ছিল। তিনি নিজে মাদক নিতেন না, কিন্তু অন্য মানুষের সেই অধিকার থাকা উচিত বলেও মনে করতেন। অর্থাৎ ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন, যদিও নিজে সেই পথে হাঁটেননি।
তার একমাত্র বড় নেশা ছিল সিগারেট। অনেকের মতে, সেটিই শেষ পর্যন্ত তার অকাল মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাত্র ৫২ বছর বয়সে তিনি প্রস্টেট ক্যান্সারে মারা যান।
“আমি হিপি না, আমি ফ্রিক”
জাপ্পা যেই সময়ে বড় হয়েছেন, তখন আমেরিকায় হিপি সংস্কৃতির জোয়ার। লম্বা চুল, রঙিন পোশাক, “ভালবাসা ও শান্তি”—সব মিলিয়ে এক নতুন সংস্কৃতি। জাপ্পার চেহারাও অনেকটা হিপিদের মত ছিল। কিন্তু তিনি বারবার বলতেন, “আমি হিপি না, আমি ফ্রিক।”
কারণ তার চোখে হিপিরাও ধীরে ধীরে আরেক ধরনের ছাঁচে পরিণত হচ্ছিল। সবাই একইভাবে কথা বলছে, একই রকম পোশাক পরছে, একই ধরনের চিন্তা করছে। জাপ্পা এই ভণ্ডামি ও দলবদ্ধ মানসিকতাকে পছন্দ করতেন না।
১৯৬৮ সালে প্রকাশিত তার অ্যালবাম We’re Only in It for the Money ছিল হিপি সংস্কৃতি ও জনপ্রিয় রক-সংস্কৃতির তীব্র ব্যঙ্গ। অ্যালবামের প্রচ্ছদে Beatles-এর Sgt. Pepper’s অ্যালবামকে সরাসরি প্যারোডি করা হয়েছিল। গানের মধ্যেও তিনি “Flower Power” সংস্কৃতিকে কটাক্ষ করেছিলেন।
রাজনীতিতেও জাপ্পা ছিলেন একেবারে আলাদা ধরনের মানুষ। অর্থনৈতিক বিষয়ে তিনি ছোট সরকার ও কম করের পক্ষে ছিলেন, কিন্তু সামাজিক বিষয়ে ছিলেন বেশ উদার। সেন্সরশিপ, ধর্মীয় আধিপত্য ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সরব ছিলেন।
১৯৮৮ সালে Libertarian Party তাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিল। তবে তিনি রাজি হননি। ডান বা বাম—কোনো রাজনৈতিক শিবিরই তাকে পুরোপুরি নিজেদের মানুষ বলতে পারেনি।
সিনেটে জাপ্পার লড়াই
১৯৮৫ সালে জাপ্পা জড়িয়ে পড়েন তার জীবনের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক বিতর্কে। তখন আমেরিকায় দাবি উঠেছিল, গানের অ্যালবামে সতর্কীকরণ স্টিকার লাগানো হোক, যাতে অভিভাবকেরা বুঝতে পারেন কোন গানে “আপত্তিকর” বিষয় আছে।
এই প্রচারণার পেছনে ছিলেন কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিকের স্ত্রী, যাদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন সিনেটর (পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট) আল গোরের স্ত্রী টিপার গোর।
জাপ্পা শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করেন। তার মতে, এটি ছিল শিল্প ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর পরোক্ষ সেন্সরশিপ।
১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮৫ সালে তিনি মার্কিন সিনেটে সাক্ষ্য দেন। সঙ্গে ছিলেন জন ডেনভার ও ডি স্নাইডার। সেদিন জাপ্পা ইচ্ছে করেই স্যুট-টাই পরে গিয়েছিলেন, যেন তাকে “উচ্ছৃঙ্খল রকস্টার” বলে উড়িয়ে দেওয়া না যায়। সেখানে তিনি বলেছিলেন, অ্যালবামে সতর্কীকরণ স্টিকার লাগানো হল “খুশকি সারাতে মাথা কেটে ফেলার” মত। মন্তব্যটি পরে খুব বিখ্যাত হয়ে যায়।
পরের বছর সিএনএন-এর ক্রসফায়ার অনুষ্ঠানে জাপ্পা আবারও সরাসরি বিতর্কে অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, আমেরিকার সবচেয়ে বড় বিপদ শুধু কমিউনিজম নয়, বরং দেশকে ধীরে ধীরে “ফ্যাসিস্ট ধর্মতন্ত্রের” দিকে ঠেলে দেওয়া। এই মন্তব্য অনেকের কাছে প্রমাণ করে, জাপ্পা শুধু রকস্টার নন, বরং তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক চিন্তার মানুষও ছিলেন।
পরিবার ও সন্তানদের নাম
জাপ্পার ব্যক্তিগত জীবনও ছিল বেশ অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী। তার দুটি বিয়ে হয়েছিল। প্রথম স্ত্রী কে শারম্যান-এর সঙ্গে সম্পর্ক বেশিদিন টেকেনি। পরে ১৯৬৭ সালে তিনি বিয়ে করেন গেইল স্লোটম্যান-কে। জাপ্পার মৃত্যুর পর তিনিই পরিবারের সংগীত-সম্পদ ও আর্কাইভের দায়িত্ব সামলান।

তাদের চার সন্তানের নামও ছিল একেকটা আলাদা গল্প। বড় মেয়ের নাম Moon Unit (মুন ইউনিট)। জাপ্পার মতে, “Unit” শব্দটি পরিবারের বন্ধন বোঝায়। বড় ছেলে Dweezil (ডুইজিল)-এর নাম এসেছে গেইলের একটি পায়ের আঙুলের ডাকনাম থেকে। তৃতীয় সন্তান Ahmet (আহমেট)-এর নাম রাখা হয় তুর্কি সংগীত-প্রযোজক Ahmet Ertegun (আহমেট এর্তেগুন)-এর নামে। আর সবচেয়ে ছোট মেয়ে Diva (ডিভা)-র নাম রাখা হয়েছিল হাসপাতালে জন্মের পর সবচেয়ে জোরে কান্না করার কারণে।
Moon Unit মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে Valley Girl (ভ্যালি গার্ল, ১৯৮২) গান গেয়ে আমেরিকাজুড়ে আলোচনায় আসেন। এটি জাপ্পার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সাফল্যগুলির একটি। গানটির মূল আকর্ষণ ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার কিশোরীদের কথা বলার ভঙ্গির ব্যঙ্গাত্মক অনুকরণ।
তবে পারিবারিক জীবন সবসময় সুখের ছিল না। ২০২৪ সালে Moon Unit তার স্মৃতিকথা Earth to Moon (আর্থ টু মুন) প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ফ্রাঙ্ক জাপ্পা বেশিরভাগ সময় ট্যুর বা স্টুডিওতেই কাটাতেন। তিনি খুব কমই সন্তানদের স্কুল বা দৈনন্দিন জীবনে অংশ নিতেন। মা-বাবার সম্পর্কেও টানাপোড়েন ছিল, বিশেষ করে জাপ্পার একাধিক সম্পর্ক নিয়ে ঘন ঘন ঝগড়া হত।
ফলে মঞ্চে যিনি ছিলেন তীক্ষ্ণ, আত্মবিশ্বাসী ও স্পষ্টবাদী, ঘরের ভেতরে তিনি অনেকটাই অনুপস্থিত একজন বাবা। এই দিকটি না জানলে ফ্রাঙ্ক জাপ্পার পুরো মানুষটিকে বোঝা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
একটাই বই, কিন্তু কী বই
মৃত্যুর চার বছর আগে, ১৯৮৯ সালে, জাপ্পা প্রকাশ করেন তার আত্মজীবনী দ্য রিয়েল ফ্রাঙ্ক জাপ্পা বুক। সাংবাদিক পিটার অকিওগ্রসো-র সহযোগিতায় লেখা এই বইটি প্রকাশ করেছিল পসিডন প্রেস, যা ছিল সাইমন অ্যান্ড শুস্টার-এর একটি শাখা।
বইয়ের নামেই যেন জাপ্পার মনোভাব স্পষ্ট। তাকে নিয়ে আগে কিছু অননুমোদিত বই বের হয়েছিল, যেগুলি তিনি ভুল ও সুযোগসন্ধানী বলে মনে করতেন। তাই নিজের গল্প নিজেই বলতে চেয়েছিলেন। বইয়ের প্রথম লাইনই ছিল:
“এই বইটা এই বিশ্বাসে লেখা যে কোথাও কেউ একজন জানতে চাইছে, আমি কে, কীভাবে এমন হলাম, এবং আমি যা বলছি তার মানে আসলে কী।”
বইটি সাধারণ আত্মজীবনীর মত নয়। ভাষা একদম কথোপকথনের মত, কোথাও রাগে বড় হাতের অক্ষর, কোথাও আবার অদ্ভুত রসিকতা।
এতে আছে তার শৈশব, গ্যাস মাস্কের সেই বাড়ি, Varèse-এর সঙ্গীত আবিষ্কার, The Mothers of Invention গঠনের গল্প, এমনকি ১৯৮৫ সালের সিনেট-বক্তব্যের পূর্ণ পাঠও। পর্ন ওয়ারস নামে একটি অধ্যায়ে আছে টিপার গোর-এর সঙ্গে সেন্সরশিপবিরোধী লড়াইয়ের কাহিনি। পাশাপাশি রাজনীতি, ধর্ম, শিক্ষা ও আমেরিকান সংস্কৃতি নিয়ে তার তীক্ষ্ণ মতামতও ছড়িয়ে আছে পুরো বইজুড়ে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার, বইটি তিনি উৎসর্গ করেছিলেন বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং-কে। কেন, তার কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি। অনেকের ধারণা, প্রতিষ্ঠিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করার সাহসের জন্যই হকিংকে তিনি এতটা শ্রদ্ধা করতেন।
কোটেশনে ফেরা
এত গল্পের পর “মন প্যারাসুটের মত” কথাটা ফিরে দেখলে কী মনে হয়? এটা সত্যিই জাপ্পার বলা কিনা, তার প্রমাণ নেই। ১৯৩৬ সালের ‘চার্লি চ্যান অ্যাট দ্য সার্কাস’ ছবিতে এর কাছাকাছি একটা লাইন আছে। ১৯২৭ সালে আমেরিকার ‘লুইজভিল টাইমস’ পত্রিকায় কথাটা প্রথম ছাপা হয়েছিল, কোনো লেখকের নাম ছাড়াই। স্কচ হুইস্কির ব্র্যান্ড Dewar’s-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা টমাস ডিউয়ারের নামেও এই উদ্ধৃতি চালু আছে। অর্থাৎ কে আদি বক্তা, তা অস্পষ্ট।
কিন্তু কথাটা জাপ্পার নামেই কেন টিকে গেছে? কারণ মানুষটার পুরো জীবন এই বাক্যের জলজ্যান্ত উদাহরণ। যিনি হিপি-যুগে হিপি হতে রাজি হননি। যিনি রক-যুগে নেশা ছোঁননি। যিনি সিনেটে গিয়ে সরকারের সঙ্গে লড়েছেন। যিনি ব্যান্ডকে কনসার্ভেটরির মত চালিয়েছেন। যিনি সন্তানদের নাম রেখেছেন এমন, যা পৃথিবীর আর কারও সঙ্গে মেলে না।
তিনি আদর্শ মানুষ ছিলেন না। সন্তানদের কাছে ছিলেন অনুপস্থিত, স্ত্রীর কাছে অবিশ্বস্ত, নিজের কাছেও যথেষ্ট যত্নশীল ছিলেন না। কিন্তু একটা জায়গায় তিনি কখনও হার মানেননি, নিজের মাথা। সেটা সবসময় খোলা রাখার চেষ্টা করেছেন। কথাটা তার মুখের কিনা, সেই তর্কের চেয়ে এই সত্যটা অনেক বড়।
সাহিত্য ডেস্ক
