ভূমিকা: বোর্হেস ও ফুটবলের দ্বৈরথ—একটি দার্শনিক ব্যবচ্ছেদ
বিংশ শতাব্দীর বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হোর্হে লুইস বোর্হেস ১৮৯৯ সালের ২৪ আগস্ট আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে জন্মগ্রহণ করেন। তার বর্ণাঢ্য সাহিত্যিক জীবনে তিনি ছোটগল্প, কবিতা ও প্রবন্ধের মাধ্যমে বিশ্বসাহিত্যকে এক নতুন দার্শনিক মাত্রা দিয়েছেন। জীবনের শেষ দিনগুলি তিনি সুইজারল্যান্ডে অতিবাহিত করেন এবং ১৯৮৬ সালের ১৪ জুন জেনেভায় তার মহাপ্রয়াণ ঘটে।
অন্যতম এই কিংবদন্তি বোর্হেস এবং ফুটবল—এই দুইয়ের সম্পর্ক ছিল অনেকটা উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরুর মত। যে আর্জেন্টিনায় ফুটবলকে ধর্মের সমতুল্য মনে করা হয়, সেই দেশেরই সবচেয়ে বড় সাহিত্যিক একে আজীবন “নান্দনিকভাবে কুৎসিত” বলে অবজ্ঞা করেছেন। বোর্হেসের দৃষ্টিতে ফুটবল কেবল একটি সাধারণ খেলা ছিল না; বরং তার কাছে এর বড় অপরাধটি ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক। তিনি মনে করতেন, এই খেলাটি সমাজে এক ধরনের “গণ-নির্বুদ্ধিতার জয়গান” ছড়িয়ে দেয়, যেখানে মানুষ নিজের ব্যক্তিগত চিন্তাশক্তি হারিয়ে স্রেফ অন্ধ উন্মাদনায় গা ভাসিয়ে দেয়।
বোর্হেসের এই বিরোধিতার মূল ভিত্তি ছিল তিনটি। প্রথমত, ফুটবলের মাধ্যমে তৈরি হওয়া গণ-উন্মাদনা ও উগ্র জাতীয়তাবাদকে তিনি ফ্যাসিজমের একটি ছায়া হিসাবে দেখতেন। তার ভয় ছিল, মাঠের এই উন্মাদনাকে সহজেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে বা স্বৈরাচারী শাসনের বৈধতা দিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, শৈল্পিক বিচারে ফুটবলকে তিনি অত্যন্ত স্থূল এবং বিরক্তিকর মনে করতেন। আর তৃতীয়ত, তিনি মনে করতেন আধুনিক ফুটবল আসলে মাঠের খেলা নয়, বরং মিডিয়া ও প্রচারযন্ত্রের মাধ্যমে তৈরি একটি ভ্রম বা কৃত্রিম বাস্তবতা।
ফুটবল নিয়ে তার এই দৃষ্টিভঙ্গির সবচেয়ে ধারালো প্রতিফলন ঘটে ১৯৬৭ সালে লেখা ‘টু বি ইজ টু বি পারসিভড’ (Esse est Percipi) গল্পে। আইরিশ দার্শনিক জর্জ বার্কলের “অস্তিত্ব মানেই দৃশ্যমান হওয়া”—এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে বোর্হেস দেখিয়েছেন, কীভাবে একটি খেলা বাস্তবে অস্তিত্বহীন হয়েও স্রেফ মিডিয়ার প্রচারণায় কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন হয়ে উঠতে পারে। বোর্হেস এমন এক সময়ে এসব কথা বলতেন, যখন ফুটবল আর্জেন্টাইনদের জাতীয় পরিচয়ের অংশ। ফলে তার এমন মন্তব্য প্রায়শই জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করত।
ফুটবলের প্রতি বোর্হেসের এই প্রকাশ্য বিদ্রোহের সবচেয়ে স্মরণীয় এবং নাটকীয় উদাহরণ দেখা যায় ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে। ২ জুন, যখন বুয়েনস আইরেসে স্বাগতিক আর্জেন্টিনা ও হাঙ্গেরির মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচটি শুরু হতে যাচ্ছে, ঠিক তার ১৫ মিনিট আগে বিকেল ৩টায় বোর্হেস বুয়েনস আইরেসের উইনসর সেন্টারে এক বক্তৃতার সময় নির্ধারণ করেন। আর্জেন্টাইন সোসাইটি অফ রাইটার্স (SADE) আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে যখন তিনি মঞ্চে ওঠেন, পুরো দেশ তখন মাঠের উন্মাদনায় মত্ত। যখন স্টেডিয়ামে হাজার হাজার মানুষের গর্জন চলছিল, বোর্হেস তখন মাত্র হাতেগোনা পাঁচ-দশজন দর্শকের সামনে অমরত্ব এবং দর্শন নিয়ে কথা বলছিলেন। প্রেক্ষাগৃহের সেই নিস্তব্ধতা দিয়ে তিনি যেন জবাব দিয়েছিলেন স্টেডিয়ামের লক্ষ কণ্ঠের উন্মাদনাকে। তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে, সমবেত চিৎকারের চেয়ে নির্জন কক্ষে একজন মানুষের ব্যক্তিগত চিন্তার মূল্য অনেক বেশি।

শ্যাজ ম্যাথুর মূল প্রবন্ধটির শিরোনাম ছিল Why Did Borges Hate Soccer?, যা ২০১৪ সালের ২০ জুন বিখ্যাত মার্কিন ম্যাগাজিন দ্য নিউ রিপাবলিক-এ প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য, সেই সময়ে ব্রাজিলে চলছিল ২০১৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ (১২ জুন-১৩ জুলাই)। যখন বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই শ্যাজ ম্যাথুর এই বিশ্লেষণটি প্রকাশিত হয়। এই অনুবাদটি আমাদের সামনে উন্মোচন করে এক অন্য বোর্হেসকে—যিনি গোলপোস্টের উন্মাদনার চেয়ে মানুষের ব্যক্তিগত স্বকীয়তা এবং মতান্ধতা থেকে মুক্তির বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
বোর্হেস কেন ফুটবল ঘৃণা করতেন?
শ্যাজ ম্যাথু
বোর্হেসের অভিমত হল, ফুটবল জনপ্রিয় কারণ নির্বুদ্ধিতাও জনপ্রিয়।
প্রথমেই মনে হয়, এই আর্জেন্টাইন লেখকের ‘দি বিউটিফুল গেম’ এর প্রতি বিদ্বেষ আজকালকার দিনের আর দশজন সাধারণ ফুটবল বিদ্বেষীর মতই। ফুটবলের প্রতি তাদের এই অলস বিদ্রূপ প্রায় জিকিরে পরিণত হয়েছে এখন, ফুটবল খুব বিরক্তিকর, খেলা বেশিরভাগ সময় অমীমাংসিত থাকে, মিথ্যা ইনজুরি আমার পছন্দ না ইত্যাদি।
এবং এটা সত্য। বোর্হেস ফুটবলকে ‘নান্দনিকভাবে কুৎসিত’ বলেছেন। তিনি বলেছেন, ফুটবল হল ইংল্যান্ডের বড় অপরাধগুলির একটি। এবং স্পষ্টতই ইচ্ছা করে তিনি ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম খেলার দিন নিজের একটা লেকচারের সময় নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু খেলার প্রতি বোর্হেসের এরকম অনাগ্রহজনিত মনোভাব নান্দনিকতার চেয়ে অন্য একটি জটিল বিষয় থেকে এসেছে।
তার সমস্যা ছিল ফুটবল ভক্তদের কালচার নিয়ে। তিনি এটার সাথে বিংশ শতাব্দীর কিছু ভয়াবহ রাজনৈতিক আন্দোলনের নেতাদের প্রতি অন্ধ সমর্থনের সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। তার জীবদ্দশায় তিনি আর্জেন্টিনার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নিহিত ফ্যাসিজম, পেরোনিজম এমনকি অ্যান্টি সেমিটিজমের কিছু উপাদান দেখেছিলেন।
সুতরাং জনপ্রিয় রাজনৈতিক আন্দোলন এবং আর্জেন্টিনায় জনপ্রিয় সংস্কৃতি হিসাবে ফুটবলের প্রতি তার গভীর সন্দেহের অর্থ রয়েছে। (তিনি একবার লিখেছিলেন ফুটবলে ক্ষমতা বা আধিপত্যের যে ধারণা রয়েছে তা আমার ভয়াবহ মনে হয়।) বোর্হেস যেকোনো ধরনের ডগম্যাটিজম (যে কোনো মত সম্পর্কে মতান্ধতা) এর বিরোধীতা করতেন। সুতরাং যে কোনো ধর্ম বা মতবাদের প্রতি তার দেশের মানুষের শর্তহীন প্রেমকে তিনি স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহের চোখে দেখতেন।
এই খেলা নিয়ে বোর্হেসের আরেকটি মতামত হল, ফুটবল খুব শক্তভাবে জাতীয়তাবাদের সাথে সম্পর্কিত।
তিনি বলেছেন, জাতীয়তাবাদ শুধু পক্ষের মতামতকেই অনুমোদন দেয়, এবং যে মতবাদ দ্বিমত, অস্বীকৃতি বাতিল করে দেয় সে মতবাদ হল গোঁড়ামি এবং বোকামির মিশ্রণ। জাতীয় দল জাতীয়তা কেন্দ্রিক উত্তেজনা তৈরি করে, ফলে ন্যায়বিচারহীন একটা সরকারের একজন স্টার খেলোয়াড়কে মুখপাত্র হিসাবে ব্যবহার করে নিজেকে বৈধ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
আসলে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়দের একজনের সাথে এটাই হয়েছে: পেলে। “যখন তার সরকার রাজনৈতিক বিরোধীদের শেষ করে দিচ্ছিল, তারা গোলের দিকে বল নিয়ে যাওয়া পেলের একটি বিশাল পোস্টার বানায়, সেখানে শ্লোগান ছিল, কেউ এখন এই দেশকে থামাতে পারবে না”, লেখক ডেভ জিরিন তার নতুন বই ‘ব্রাজিল ড্যান্স উইদ দ্য ডেভিল’ এ এই কথাগুলি লিখেছেন।
ব্রাজিলিয়ান যে সামরিক স্বৈরশাসকের অধীনে থাকাকালীন পেলে খেলেছিলেন সেই ধরনের সরকার জনগণের সমর্থনের জন্য ভক্তরা জাতীয় দলের সাথে যে বন্ধন গড়ে তোলে তার সুবিধা নিতে পারে। আর বোর্হেস এই জিনিসটা নিয়েই ভয় পেতেন এবং ক্ষুব্ধ ছিলেন।
তার ছোট গল্প ‘টু বি ইজ টু বি পারসিভড’ এ হয়ত ফুটবলের প্রতি তার বিদ্বেষের ব্যাখ্যা আছে। গল্পের মাঝপথে দেখা যায় আর্জেন্টিনায় ফুটবল একটি খেলায় পরিণত হওয়া বন্ধ করে দিয়েছে এবং দৃশ্যের জগতে জায়গা করে নিয়েছে। এই কাল্পনিক জগতে দৃশ্যই প্রধান জিনিস হিসাবে রাজত্ব করে: খেলার উপস্থাপন আসল খেলার জায়গা নিয়ে নিয়েছে। “এই খেলাগুলির রেকর্ডিং স্টুডিও এবং পত্রিকা অফিসের বাইরে কোনো অস্তিত্ব নেই”, একটি ফুটবল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ক্ষোভের সাথে বলে। ফুটবল খেলা গোঁড়ামিকে এত গভীরভাবে উৎসাহ দেয় যে সমর্থকরা কোনো কিছুকে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই টিভি এবং রেডিওতে চলতে থাকা অস্ত্বিত্ববিহীন খেলা দ্যাখে:
অনেকদিন হল স্টেডিয়াম তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে এবং ভেঙে যাচ্ছে। এখনকার দিনে সবকিছুই টেলিভিশন এবং রেডিওতে মঞ্চস্থ হয়। খেলা সম্প্রচারকারীদের মিথ্যা উত্তেজনা কখনো আপনাকে সন্দেহ করায় নি যে সবকিছুই আসলে ভান? সর্বশেষ বুয়েনস আইরেসে ১৯৩৭ সালের ২৪ জুন ফুটবল ম্যাচ খেলা হয়েছিল। ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে খেলার ভিতরের স্বরের সাথে নাটকের ধরন মিলিয়ে একজন সিঙ্গেল ব্যক্তি বা অভিনেতার দ্বারা একটি বুথে বা টিভি ক্যামেরার সামনে এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গল্পটি গণ আন্দোলন নিয়ে বোর্হেসের অস্বস্তির কথা বলেছে। মিডিয়া ফুটবল পূজা করার গণসংস্কৃতি তৈরি করেছে, এবং, ফলে, ম্যানিপুলেশনের জন্য এটা সুবিধাজনক হয়েছে। গল্পটিতে মিডিয়াকে এ কারণে অভিযুক্ত করেছে।
বোর্হেসের মতে, মানুষ একটি বিশাল ইউনিভার্সাল পরিকল্পনা, নিজেদের থেকে বড় কিছু একটার অধীন এই ব্যাপারটা অনুভব করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। কারো জন্য ধর্ম এই কাজটা করে, কারো জন্য করে ফুটবল।
বোর্হেসের লেখায় চরিত্রগুলি প্রায়ই এই ইচ্ছাকে আঁকড়ে ধরে, আদর্শবাদী হয়ে যায় অথবা ধ্বংসাত্মক কিছু করে। ‘ডিউটসচেস রিকুয়েম’ গল্পের ন্যারেটর নাৎসি হয়ে যায়, ‘দ্য লটারি ইন ব্যাবিলন’ এবং ‘দ্য কংগ্রেস’ গল্পের ছোট আপাত দৃষ্টিতে নিরীহ সংস্থাগুলি অনেক বড় ব্যুরোক্রেসিতে রূপান্তরিত হয় এবং শারীরিক শাস্তি অথবা বই পোড়ানোর বিধান জারি করে।
আমরা বড় কিছুর অংশ হতে চাই, এত বেশি মাত্রায় চাই যে, যেসব ত্রুটি নিয়ে এই বিশাল পরিকল্পনা বা গ্র্যান্ড প্ল্যান গঠিত বা এই গ্র্যান্ড প্ল্যানের মধ্যেই নিহিত সেই ত্রুটিগুলির ব্যাপারে অন্ধ হয়ে যাই। এবং তখন ‘দ্য কংগ্রেস’ এর বর্ণনাকারী আমাদের যেমন মনে করিয়ে দেয় এই গ্র্যান্ড ন্যারেটিভগুলির ফাঁদ প্রায়ই খুব বেশি প্রমাণ করে: “আসল ব্যাপারটি হল আমাদের অনুভব করা যে আমাদের পরিকল্পনা বা গ্র্যান্ড প্ল্যান আমরা একবারের বেশি কৌতুকবশত তৈরি করেছি, তা সত্যিই গোপনে টিকে আছে, প্ল্যানটি হল এই পৃথিবী এবং আমরা।”
এই বাক্যটিই নিখুঁতভাবে বর্ণনা করতে পারে পৃথিবীর মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ ফুটবল নিয়ে কেমন অনুভব করে।
লেখক পরিচিতি
শ্যাজ ম্যাথু (Shaj Mathew) একজন প্রতিভাবান মার্কিন প্রাবন্ধিক, গবেষক এবং সমালোচক। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার স্নাতক সম্পন্ন করেছেন পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে এবং বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য ও চলচ্চিত্র বিষয়ে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত আছেন। এছাড়া তিনি সেখানকার বিখ্যাত ‘পেন হিউম্যানিটিজ ফোরাম’-এর একজন ফেলো।
একজন ফ্রিল্যান্স লেখক হিসাবে তার গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণ নিয়মিতভাবে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড, দ্য নিউ রিপাবলিক, দ্য ফিলাডেলফিয়া ইনকোয়ারার এবং ম্যাকসুইনি’স-এর মত বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম ও সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। তার কাজের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে সাহিত্য, রাজনীতি এবং পপুলার কালচারের মধ্যকার জটিল সম্পর্কের ব্যবচ্ছেদ। বর্তমান অনুবাদটি তার ‘Why Did Borges Hate Soccer?’ শীর্ষক বিখ্যাত প্রবন্ধ অবলম্বনে তৈরি, যা বিশ্বজুড়ে সাহিত্য ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে সমানভাবে সমাদৃত।
অনুবাদ. ডেস্ক
