যেকোনো ভাষায় লেখা সবচেয়ে জনপ্রিয় বইগুলির একটির লেখক পাওলো কোয়েলহো। দ্য অ্যালকেমিস্ট-এ আত্ম-আবিষ্কারের যে পৌরাণিক যাত্রার গল্প তিনি বুনেছেন, নিজের জীবনেও পাড়ি দিয়েছেন সেই পথ। বইটি ওপরার প্রিয় আধ্যাত্মিক পথনির্দেশকগুলির একটি। এবার তিনি খোলাখুলি বলছেন স্বপ্ন, নিয়তি আর সেই একটিমাত্র জিনিস নিয়ে—যা, তার বিশ্বাসে, মানুষকে সত্যিকারের সুখী করতে পারে।
পাওলো কোয়েলহোর কালজয়ী প্রজ্ঞার রহস্য
ওপরা উইনফ্রে
বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, ১৯৯৬ সালে ম্যাডোনাই আমাকে প্রথম দ্য অ্যালকেমিস্ট-এর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। দ্য ওপরা উইনফ্রে শো-এর একটা পর্ব রেকর্ডিংয়ের সময় বলেছিলেন, এটাই তার সবচেয়ে প্রিয় বই। থামতেই চাইছিলেন না, একনাগাড়ে বলে যাচ্ছিলেন। আমি ভাবলাম, “যে বইটা ম্যাডোনার জীবন বদলে দিয়েছে, সেটা আমাকে পড়তেই হবে।” পড়লাম। আর সেই থেকে লেখকের একটা সাক্ষাৎকার নেওয়ার সাধ মনের ভেতর জমে ছিল।
দ্য অ্যালকেমিস্ট এক তরুণ আন্দালুসীয় রাখালের গল্প। মিশরের পিরামিডে গুপ্তধন খুঁজে পাওয়ার স্বপ্ন দেখে সে তার মেষপাল বিক্রি করে দেয়, তারপর বেরিয়ে পড়ে সাহস আর অন্তর্দৃষ্টির এক যাত্রায়। সেই যাত্রা আসলে আমাদের সবার যাত্রারই প্রতিচ্ছবি। বইটা আমাকে এতটাই ছুঁয়ে গিয়েছিল যে চেনা প্রতিটা মানুষকে পড়তে দিয়েছি, আর তারা দিয়েছে আরও অনেককে। এমন বই, যা গোটা দুনিয়ার সঙ্গে ভাগ করে নিতে ইচ্ছে করে। এই কারণেই ১৯৮৮ সালে প্রকাশের পর থেকে বইটা বিক্রি হয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি কপি, অনূদিত হয়েছে ৮০টিরও বেশি ভাষায়।
নিজেকে আধ্যাত্মিক গুরু মনে না করলেও পাওলো কোয়েলহো আমার বড় শিক্ষকদের একজন। দ্য অ্যালকেমিস্ট আজও আমার বিছানার পাশে থাকে, আর দেখি অনেকেই একই কাজ করেন। (সম্প্রতি ফ্যারেল উইলিয়ামসও বললেন, এটা তারও প্রিয় বইগুলির একটা।) বইটা প্রকাশের ২৫তম বার্ষিকীর ঠিক পরে অবশেষে জেনেভায় তার বাড়িতে বসার সৌভাগ্য হল আমার। (শহরটার জন্য সবচেয়ে মানানসই শব্দটা হল সভ্য—রাস্তায় এক টুকরা আবর্জনাও চোখে পড়েনি!) গোলাপ, পিংক শ্যাম্পেন আর খাবার দিয়ে আমাকে স্বাগত জানালেন। রান্নাটা করেছেন তার প্রিয় স্ত্রী, শিল্পী ক্রিস্টিনা অইতিসিকা। তারপর শুরু হল কথা। দেখলাম, যে আবেগ আর দৃঢ়তা তাকে এই অসামান্য বইটা লিখিয়ে নিয়েছিল, আজও সেটাই তার জীবনের পথ দেখায়।
পাওলো কোয়েলহোর সাক্ষাৎকার
সাক্ষাৎকার গ্রহণ: ওপরা উইনফ্রে
কথোপকথনটি হয়েছিল জেনেভায় পাওলো কোয়েলহোর বাড়িতে, দ্য অ্যালকেমিস্ট প্রকাশের (১৯৮৮) ২৫তম বার্ষিকীর ঠিক পরে, অর্থাৎ ২০১৩ সালের শেষভাগে। ওপরার “সুপার সোল সানডে” অনুষ্ঠানে এটি প্রচারিত হয় ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪, আর ছাপা আকারে বেরোয় O, The Oprah Magazine-এর অক্টোবর ২০১৪ সংখ্যায়।
ওপরা উইনফ্রে: ওহ, আমি এখানে আসতে পেরে খুব খুশি।
পাওলো কোয়েলহো: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আসার জন্য। মাই গড!
ওপরা: “মাই গড”—একদম ঠিক বলেছেন। আমি এখন সেই মানুষের সঙ্গে বসে আছি, যিনি দ্য অ্যালকেমিস্ট লিখেছেন!
পাওলো: কিন্তু আমি কোনো গুরু নই।
ওপরা: জানি—আপনি গুরু নন।
পাওলো: না, না, না, না, না।
ওপরা: আপনি শুধু একজন লেখক এবং একজন শিক্ষক এবং একজন…
পাওলো: একজন চূড়ান্ত ছাত্র।
ওপরা: একদম ঠিক। তো গত বছর ছিল দ্য অ্যালকেমিস্ট এর ২৫তম বার্ষিকী। আর এটি সত্যিই এক অসাধারণ ঘটনা। আজ আগে আমি কাউকে এটা বর্ণনা করার চেষ্টা করছিলাম—আর আমি যে শব্দটা ব্যবহার করেছিলাম, সেটা হল ‘তালিসমান’ (talisman), অর্থাৎ একধরনের রক্ষাকবচ। এটা সত্যিই অনেক মানুষের কাছে একটা রক্ষাকবচ হয়ে উঠেছে। যতবারই পড়ি না কেন, সবসময় এর থেকে নতুন কিছু পাই। আপনার কি এমন হয়? আপনি কি আবার পড়েছেন?
পাওলো: অনেকবার। আর আমি প্রায়ই বিস্ময় অনুভব করি—আমি কীভাবে এই বইটা লিখলাম? কারণ আমি খুব ভাল লেখক ছিলাম না। এখনও খুব ভাল লেখক নই।
ওপরা: এটা কি সত্যি যে আপনি দুই সপ্তাহে এটা লিখেছিলেন?
পাওলো: হ্যাঁ। আর তারপর আমি বইয়ের নাম লিখলাম। তারপর প্রথম দুই পাতা লিখলাম। প্রথম বাক্যটা হল “ছেলেটির নাম ছিল সান্তিয়াগো।”
ওপরা: ঠিক।
পাওলো: কারণ আমি আর্নেস্ট হেমিংওয়ের দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি বইটি নিয়ে মুগ্ধ ছিলাম। সেই বইয়ের মূল চরিত্রের নামও সান্তিয়াগো।
ওপরা: আমি ভাবছিলাম আপনি হয়ত স্পেনের সেই পথের নামে তার নাম রেখেছেন, এল ক্যামিনো দে সান্তিয়াগো, যেটা নিয়ে আপনি আপনার দ্য পিলগ্রিমেজ বইয়ে লিখেছিলেন।
পাওলো: না, হেমিংওয়ের কারণে।
ওপরা: আর দ্য অ্যালকেমিস্ট তো প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বেস্টসেলার হয়নি, তাই না?
পাওলো: ঠিক বলেছেন। প্রকাশের কিছুদিন পরই আমার প্রকাশক বলল, “এটা বিক্রি হচ্ছে না।” আর আমি বললাম, “একটু সময় দিন।” আর তারা বলল, “না, না, না। এই বইটা কখনও চলবে না।” কিন্তু বইটায় একটা বাক্য আছে যেখানে বলা হয়েছে, “যখন তুমি কিছু চাও, সমগ্র মহাবিশ্ব তোমাকে তা অর্জনে সাহায্য করতে উঠেপড়ে লাগে।”
ওপরা: হ্যাঁ।
পাওলো: আর আমি ভাবলাম, “আমি এটা লিখেছি। আমাকে এই কথাগুলি মেনে চলতে হবে।”
ওপরা: বাহ।

পাওলো: তাই আমি দরজায় দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করলাম। আর ওপরা, বিশ্বাস করবেন যখন আমি বলছি—প্রথম যে দরজায় কড়া নাড়লাম—সেটা ছিল ব্রাজিলের একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা সংস্থা—একজন লোক দরজা খুলল আর আমি বললাম, “আমার কাছে একটা বই আছে। এটা কোনো প্রতিভাবানের পাণ্ডুলিপি নয়, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি এটা বিক্রি হবে।” আর লোকটা বলল, “ঠিক আছে, আমি এটা প্রকাশ করব।” তিন বছর পর, যখন বইটি ব্রাজিলে পাঁচ লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছে, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম কেন তিনি একটা বই পুনঃপ্রকাশ করলেন যা আগে একবার ব্যর্থ হয়েছিল। আর তিনি বললেন, “আমি জানি না।”
ওপরা: এটা অবিশ্বাস্য শোনাচ্ছে। ভাগ্যের মত।
পাওলো: একদম তাই। কারণ আমি নিয়তিতেই বিশ্বাস করি।
ওপরা: জানেন, গবেষক জোসেফ ক্যাম্পবেল ‘বীরের যাত্রা’ (hero’s journey) নিয়ে লিখেছেন—যেখানে অভিযাত্রী নিজের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে, বাধা অতিক্রম করে, কিছু মহান কাজ করে, তারপর ফিরে আসে তার অর্জিত জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ছড়িয়ে দিতে। আর সেটাও তো সান্তিয়াগোর গল্প।
পাওলো: হ্যাঁ।
ওপরা: আপনার মতে কেন মানুষ বীরের যাত্রায় এত গভীরভাবে সাড়া দেয়?
পাওলো: কারণ প্রত্যেকেই ভেতরে ভেতরে সেই যাত্রায় বেরিয়ে পড়তে চায়। কিন্তু বাস্তবে, খুব কম মানুষই তা করে।
ওপরা: কারণ তারা ভয় পায়।
পাওলো: হ্যাঁ, ঠিক তাই।
ওপরা: বইয়ের শুরুতে, সান্তিয়াগোর বাবা যখন তাকে যেতে বারণ করছেন, ছেলেটি বুঝতে পারে, তার বাবাও আসলে যেতে চেয়েছিলেন। আপনি লিখেছেন, “সে ছেলেটিকে আশীর্বাদ করল। ছেলেটি তার বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল একটা আকাঙ্ক্ষা, নিজেও পৃথিবী ঘুরে দেখার ইচ্ছা—যে ইচ্ছা তখনও তার মধ্যে জীবিত ছিল।, যদিও তার বাবাকে এটা কবর দিতে হয়েছিল, কয়েক দশক ধরে, পানীয় জলের জন্য, খাবারের জন্য সংগ্রামের বোঝার নিচে…” বেশিরভাগ মানুষ বোঝায় আটকে যায় আর স্বপ্ন হারিয়ে ফেলে।
পাওলো: কিন্তু আমাদের ভেতরে সবসময় একটা শিশু থাকে যে বলে, “এই, তোমার কি সেই স্বপ্নের কথা মনে আছে?”
ওপরা: আর প্রকৃত সাহস হল বের হয়ে এসে সেই স্বপ্নটা বাঁচিয়ে তোলার ক্ষমতা। এটাই আসলে একমাত্র সাহস যা আমাদের প্রয়োজন।
পাওলো: হ্যাঁ। আমার অনেক ভয় আছে, ওপরা, কিন্তু আমি এখনও আমার স্বপ্নকে সম্মান জানানোর চেষ্টা করছি, যা ছিল একজন লেখক হওয়া। যখন আপনি বই লেখেন, আপনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। আমি অনেক লেখককে ব্যর্থতায় পঙ্গু হয়ে যেতে দেখেছি, কিন্তু সফলতায়ও। তারা একটা সফল বই লিখেছেন, আর তারপর লেখা বন্ধ করে দিয়েছেন। আমি লিখে যাচ্ছি কারণ আমি আমার কাজ নিয়ে উৎসাহী।
ওপরা: আপনি সবেমাত্র আপনার ৩১তম বই প্রকাশ করেছেন, অ্যাডালটারি।
পাওলো: জানেন, আমি গুনিও না!
ওপরা: আপনার কি কখনও এই ভয় হয়নি যে আপনি দ্য অ্যালকেমিস্ট-এর সাফল্যের আর পুনরাবৃত্তি করতে পারবেন না?
পাওলো: না, না। দ্য অ্যালকেমিস্ট জীবনে একবারই ঘটে। আমার এমন বই আছে যা বিক্রি হয়নি। কিন্তু আমি লিখে যাচ্ছি।
ওপরা: তাহলে আপনার স্বপ্ন—লেখক হওয়ার স্বপ্ন—এটা কি সেই একই জিনিস যাকে আপনি দ্য অ্যালকেমিস্ট-এ পার্সোনাল লেজেন্ড বলে উল্লেখ করেছেন?
পাওলো: পার্সোনাল লেজেন্ড হল আপনি কেন এখানে আছেন তার কারণ। এটা এতটাই সহজ। আপনি আপনার ঘণ্টা আর দিনগুলি এমন জিনিস দিয়ে ভরতে পারেন যেগুলির কোনো অর্থ নেই। কিন্তু আপনি জানেন আপনার এখানে থাকার একটা কারণ আছে। এটাই একমাত্র জিনিস যা আপনাকে উৎসাহ দেয়।
ওপরা: আমি একে বলি আপনার ব্যক্তিগত আহ্বান।
পাওলো: হ্যাঁ। আর আপনি জানেন যখন আপনার উৎসাহের অভাব হয়, তখন আপনি আপনার পার্সোনাল লেজেন্ডের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।
ওপরা: আর আপনি বিশ্বাস করেন, আমাদের সবারই একটি পার্সোনাল লেজেন্ড আছে।

পাওলো: আমি শতভাগ নিশ্চিত। তবে এর মানে এই নয় যে প্রত্যেক মানুষই তার পার্সোনাল লেজেন্ড পূরণ করতে পারবে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, আমরা প্রত্যেকেই জানি—আমরা কেন এই পৃথিবীতে আছি। আমরা হয়ত জানি না আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ঠিক পথে পড়ছে কিনা। কিন্তু আমরা যদি যথেষ্ট সৎ থাকি, সৃষ্টিকর্তা আমাদের পথ দেখান। মাঝপথে যদি ভুল দিকেও পা পড়ে, সৃষ্টিকর্তা বুঝতে পারেন আপনার হৃদয় নির্মল এবং আপনাকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে দেন।
ওপরা: মহাবিশ্ব তখন আপনাকে সহায়তা করতে উঠে দাঁড়ায়।
পাওলো: হ্যাঁ।
ওপরা: তাহলে দ্য অ্যালকেমিস্ট এর শুরুর দিকে, সান্তিয়াগোকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা সম্পর্কে বলা হয়। সেটা কী?
পাওলো: যে আপনি আপনার জীবন নিয়ন্ত্রণ করেন না—যে একটা ব্যবস্থা আছে, একটা প্রতিষ্ঠান আছে, যা আপনাকে কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে দেয় না। আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যাটা বিশ্বাস করে বসেন ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন আপনি এমন নিয়ম মানতে রাজি হন যা আপনার নিজের নিয়ম নয়। যখন আপনি বলেন, “আমাকে করতে হবে।” অনেক মানুষ সেই মুহূর্তে বলে, “আমি কি আলাদা হতে যাচ্ছি? আমি কি মানুষকে বিরক্ত করতে যাচ্ছি? না।” আমি আপনাকে আমার অভিজ্ঞতা বলব। যখন আমি লেখক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, আমার বাবা-মা আমাকে নিরুৎসাহিত করার জন্য সবকিছু করেছিলেন।
ওপরা: তারা আপনাকে কী বানাতে চেয়েছিল?
পাওলো: একজন প্রকৌশলী। তারা আমাকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তারপর তারা আমাকে যে টাকা দিত সেটা বন্ধ করে দিল, এমনকি সফট ড্রিংক্স কেনার টাকাও। তারপর তারা একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিল। তারপর তারা আশা হারিয়ে ফেলল আর বলল, “এই ছেলে পাগল। আমরা তাকে ভালোবাসি, কিন্তু সে পাগল।” আর তারা আমাকে একটা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করল।
ওপরা: তারা আপনাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করেছিল কারণ আপনি লেখক হতে চেয়েছিলেন?
পাওলো: কারণ আমি একজন শিল্পী হতে চেয়েছিলাম। শিল্পীরা, আপনি জানেন, তারা অনাহারে মারা যায়, তারা সমকামী, তারা মদ্যপান করে।
ওপরা: বাহ, তাহলে তারা আপনাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করল।
পাওলো: হ্যাঁ, আসলে তিনবার। কারণ আমি প্রতিবারই পালিয়ে গিয়েছিলাম! কিন্তু ওপরা, একটা কথা বলি—ওরা ঘৃণা থেকে এটা করেনি। বরং ওরা সত্যিই ভেবেছিল আমি পাগল এবং সাহায্য করতে চেয়েছিল। তখনকার ব্রাজিল ছিল খুব পশ্চাৎপদ সমাজ। আমরা সামরিক একনায়কতন্ত্রে বাস করতাম। সবাই সবকিছু নিয়েই ভয়ে থাকত। আর আমি তখন বলছিলাম, “আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাব না।”
ওপরা: তাহলে মানসিক হাসপাতালে থাকার সময় আপনি নিজের সম্পর্কে কী শিখলেন?
পাওলো: এটি আসলে মুক্তির অভিজ্ঞতা ছিল। আমি বুঝলাম—আমি যদি পাগল হই, তাহলে আমি যা খুশি তাই করতে পারি! আর যদি কোনো ভুল হয়, বলতে পারব, “দুঃখিত, আমি তো মানসিক হাসপাতালে ছিলাম—আমাকে ক্ষমা করুন।” তাই পালিয়ে আসার পর আমি এক হিপ্পি হয়ে গেলাম।
ওপরা: সেক্স, ড্রাগস অ্যান্ড রক অ্যান্ড রোল?
পাওলো: হ্যাঁ, আর ভ্রমণ। সেটাই ছিল আপনার দেশের সাথে আমার প্রথম যোগাযোগ। আমি নিউ ইয়র্কে উড়ে গেলাম আর তারপর সান ফ্রান্সিসকো গেলাম পকেটে ২০০ ডলার নিয়ে এবং কোনো ইংরেজি না জেনে। কারণ আপনাদের এই দুটি প্রতিষ্ঠান ছিল—জানি না এখনও আছে কিনা—ওয়াইএমসিএ আর গ্রেহাউন্ড বাস।
ওপরা: হ্যাঁ। [হাসলেন]
পাওলো: আমি বাসস্টেশনে গিয়ে কর্মচারীকে বলতাম, “আমাকে এমন কোনো জায়গার টিকিট দিন, যেখানে যেতে আট ঘণ্টা লাগে,” কারণ আমাকে ঘুমাতে হত।
ওপরা: হে ঈশ্বর। তাহলে এই সময়েই কি আপনি আসলে লেখক হয়ে উঠেছিলেন?

পাওলো: আমি তখন লেখক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কিন্তু তখনও সেটা অসম্ভব ছিল। আমার বাবা-মা বলেছিল আমি পারব না, আর ওই সময়ে তারা ঠিকই ছিল। তাই আমি গান লেখা শুরু করলাম। গান লেখক হিসাবে কাজ করতে শুরু করলাম, আর বেশ ভাল অর্থও উপার্জন করলাম। তখন আমার বাবা-মা শান্ত হল, কারণ তারা বুঝল—আমি পাগল হতে পারি, কিন্তু টাকা রোজগার করতে সক্ষম।
ওপরা: তাহলে আমাকে এটা বুঝতে দিন। আমেরিকা জুড়ে আপনার যাত্রা কি আপনার পার্সোনাল লেজেন্ড আবিষ্কারের যাত্রার একটা অংশ ছিল?
পাওলো: হ্যাঁ, সেটি ছিল তারই একটি ধাপ। আমার পার্সোনাল লেজেন্ড ছিল একজন লেখক হওয়া। আর সেই মুহূর্ত থেকেই আমি আরও স্বাধীন হতে শুরু করেছিলাম। ১৯৮২ সালে, তখন আমি ক্রিস্টিনাকে বিয়ে করেছি, একটি ভাল চাকরিও ছিল। কিন্তু আমি সুখী ছিলাম না। কারণ সেখানে উচ্ছ্বাসের অভাব ছিল। তাই আমি ক্রিস্টিনাকে বললাম, “আমাদের জীবনে মানুষের স্বপ্নের সবকিছুই আছে—শুধু আনন্দ নেই। অন্তত আমার নেই।” আমাদের কয়েকটা অ্যাপার্টমেন্ট আর প্রায় ১৭ হাজার ডলার ছিল। আমি বললাম, “চলো, এই ১৭ হাজার ডলার নিয়ে বেরিয়ে পড়ি জীবনের মানে খুঁজতে। এই অর্থে আমরা অন্তত দুই বছর ভ্রমণ করতে পারব।”
ওপরা: কারণ আপনি বিশ্বাস করতেন যে আমাদের একমাত্র দায়িত্ব হল আমাদের পার্সোনাল লেজেন্ডকে সম্মান জানানো।
পাওলো: একদম। তাই আমরা ভ্রমণে বের হলাম। সেই সময়েই—আমার বয়স তখন ৩৯ বছর—আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমার একটা স্বপ্ন আছে যা পূরণ না করে আমি আর বাঁচতে পারব না। এটা আমাকে মেরে ফেলছিল। তাই আমি সবকিছু ছেড়ে দিয়ে পুরোপুরি লেখালেখি করতে শুরু করলাম। আমি চিন্তিত ছিলাম—আমার এই সিদ্ধান্তে স্ত্রী ও বাবা-মা কষ্ট পাবে কিনা। পরে বুঝলাম, তারা আসলে আমাকে সুখী দেখতে চায়।
ওপরা: আর আপনি ১৯৮৮ সালে দ্য অ্যালকেমিস্ট প্রকাশ করলেন।
পাওলো: হ্যাঁ।
ওপরা: কিন্তু আপনি জানেন কী? আমার মনে হয় সবাই জানে না তাদের পার্সোনাল লেজেন্ড—তাদের উদ্দেশ্য, তাদের আহ্বান—আসলে কী। মানুষ প্রায়ই আমাকে বলে, “আমি জানি না, আমার জীবনে কী করা উচিত।”
পাওলো: তারা জানে। এটা খুবই কঠিন, ওপরা, মেনে নেওয়া যে আপনি জানেন আপনার কী করার কথা যখন আপনি সেটা করছেন না। কারণ যে মুহূর্ত থেকে আপনি জানেন, আপনাকে হয় অনেক কিছু পেছনে ফেলে যেতে হবে বা এই সচেতনতা নিয়ে বাঁচতে হবে যে আপনি সম্পূর্ণভাবে জীবিত থাকার অলৌকিকতাকে মূল্য দিচ্ছেন না।
ওপরা: ঠিক যেমন দ্য অ্যালকেমিস্ট-এর সেই ব্যবসায়ী, যিনি মক্কায় যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছিলেন—এবং শেষ পর্যন্ত বুঝেছিলেন, তিনি আর কোনোদিনই যাবেন না।
পাওলো: হ্যাঁ। আমার জীবনে, আমি মনে করি আমি এটা শিখেছি।
ওপরা: তাহলে বলা যায়, বেশিরভাগ মানুষ তাদের পার্সোনাল লেজেন্ডের পিছু নেয় না কারণ তারা ব্যর্থতাকে ভয় পায়। আমি দ্য অ্যালকেমিস্ট এর এই উক্তিটা ভালবাসি: “‘তোমার ভয়ের কাছে হার মেনো না,’ অ্যালকেমিস্ট বলল, এক অদ্ভুত কোমল কণ্ঠে। ‘যদি তুমি তা করো, তুমি তোমার হৃদয়ের সাথে কথা বলতে পারবে না।'”
পাওলো: প্রতিটি হৃদয় ভীত। হৃদয় হল একটা ফুলের মত, আপনি জানেন? এটা খুব সাহসী হতে পারে, কিন্তু সহজেই আহত হতে পারে।
ওপরা: হুমম।
পাওলো: আমি অনেকবার পরাজিত হয়েছি। আর আমি এখনও অনেক কিছু ভয় পাই। কিন্তু মূল কথা হল হাল না ছাড়া।
ওপরা: ঠিক আছে। তাহলে যখন আপনি ছোট ছিলেন, আপনি আপনার ডায়েরিতে এটা লিখেছিলেন: “প্রতিদিন আমার মহান আদর্শ অর্জন করা আরও কঠিন মনে হচ্ছে: বিখ্যাত এবং সম্মানিত হওয়া, সেই মানুষ হওয়া যে শতাব্দীর বই লিখেছে, সহস্রাব্দের চিন্তা, মানবতার ইতিহাস।”
পাওলো: [হাসি] ওয়েল, আমি সবসময় একটু বেশিই মহত্ত্বের ভ্রমে আক্রান্ত ছিলাম!
ওপরা: ওহ, মাই গোশ! বলুন তো, নিজের সম্পর্কে এমন কথা কে লেখে?
পাওলো: যে ব্যক্তির মানসিক হাসপাতালে যাওয়া দরকার!
ওপরা: [হাসেন] তখন কি আপনি জানতেন যে মহাবিশ্ব একদিন উঠে দাঁড়াবে এবং আপনাকে সহায়তা করবে? যে আপনি সত্যিই শতাব্দীর সেরা বইটি প্রকাশ করবেন?
পাওলো: সম্ভবত না। কিন্তু আমি একমাত্র তরুণ ব্যক্তি নই যে এরকম জিনিস লেখে। যদি আপনি ছোট ভাবেন, তাহলে আপনার পৃথিবী ছোট হবে। যদি আপনি বড় ভাবেন, আপনার পৃথিবী বড় হবে। তবে সত্যি বলতে, এমন এক সেলফ-ফুলফিলড প্রফেসি (স্বয়ংসিদ্ধ ভবিষ্যদ্বাণী) ব্যাখ্যা করা খুবই কঠিন।
ওপরা: আমি এটা মেনে নিতে পারছি না!
পাওলো: কিন্তু ওপরা, আপনি জানতে চান: আমি কি দ্য অ্যালকেমিস্ট লিখেছি? আমি নিশ্চিত নই। আমি নিশ্চিত যে আমি একটা ভাল মাধ্যম ছিলাম। যে আমি এই সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি—উন্মাদ, বহিষ্কৃত—আর তারপর এমন একটা বই লিখেছি যা, সত্যি কথা বলতে, আমার চেয়ে অনেক ভাল। আপনি যখন নিজের হৃদয়কে অনুসরণ করেন, একদিন এমন কিছু সৃষ্টি করেন, যা বাস্তবকে ছুঁয়ে যায়। এটাই আসল অ্যালকেমি।
ওপরা: হ্যাঁ।
পাওলো: আর সবার এই সম্ভাবনা আছে।
ওপরা: বাহ।
পাওলো: বহু বছর আমি তেমন স্পষ্ট ছিলাম না—দ্য অ্যালকেমিস্ট-এর একটি রূপকের ভাষায় বললে। আমার একটা স্বপ্ন ছিল, কিন্তু সেটা পূরণ করার সাহস তখনও পাইনি। কিন্তু একসময় আপনি খেয়াল করতে শুরু করেন—একটা প্রতীক এখানে, আরেকটা ওখানে—আর যখন সেগুলিকে একসঙ্গে জোড়া দেন, তখন অর্থটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ওপরা: অ্যালকেমিস্ট সান্তিয়াগোকে শেখায়, “তোমার হৃদয়ের কথা শোনো। সে সবকিছু জানে…”
[পেছনে জোরে বজ্রপাত হয়; ঝড় আসছে।]
পাওলো: এটা একটা মুহূর্ত। এটা একটা চিহ্ন। এটা সাক্ষাৎকার থেকে কাটবেন না!
ওপরা: [হাসেন] আমরা কাটব না! ঈশ্বর নিশ্চয়ই সেই উক্তিটা পছন্দ করেছেন। ঠিক আছে। তাহলে অ্যালকেমিস্ট সান্তিয়াগোকে শেখায় যে হৃদয় “সবকিছু জানে, কারণ এটা এসেছে পৃথিবীর আত্মা থেকে, আর একদিন এটা সেখানে ফিরে যাবে।”
পাওলো: হ্যাঁ।
ওপরা: কিন্তু যখন সান্তিয়াগো নিজের পার্সোনাল লেজেন্ডের খোঁজে বের হয়, তখন সে এমন অনেক শক্তির মুখোমুখি হয় যা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আমি সেই অংশটি ভালবাসি আপনি যেখানে লিখেছেন—মরুভূমির মাঝে সে বালিয়াড়ি ঘুরে চলে, যুদ্ধরত গোষ্ঠীগুলিকে এড়িয়ে যায়, কিন্তু যতক্ষণ সে নিজের পথে ফিরে আসে, সে শেষ পর্যন্ত ঠিক জায়গাতেই পৌঁছায়। আমাদের জীবনও অনেকটা তেমন।
পাওলো: একদম।

ওপরা: এমন বাধা আছে যা আমাদের পথ থেকে সরিয়ে দেয়। কিন্তু যতক্ষণ আপনি জানেন আপনি কোথায় যাচ্ছেন আর কী চান…
পাওলো: ঠিক।
ওপরা: তাহলে বলুন তো, সান্তিয়াগো কি নিজের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল?
পাওলো: কমবেশি।
ওপরা: [হাসেন]
পাওলো: আপনার দরকার…ওয়েল, কিছু মুহূর্তে আপনার শৃঙ্খলা দরকার, আর অন্য মুহূর্তে আপনাকে শুধু জীবনের দ্বারা পরিচালিত হতে হবে।
ওপরা: অর্থাৎ ইঙ্গিতগুলি খেয়াল করা—চিহ্নগুলি বোঝা।
পাওলো: আপনাকে আপনার ইচ্ছাশক্তির সাথে শিথিল হওয়ার এবং উপভোগ করার এবং স্রোতের সাথে যাওয়ার ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে।
ওপরা: এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
পাওলো: একটা জেন প্রবাদ আছে যেটা মূলত বলে, যদি আপনি কিছু চান, সরে দাঁড়ান আর জিনিসটাকে আপনার কাছে আসতে দিন।
ওপরা: তাহলে আমাদের ইচ্ছাশক্তি এবং উৎসাহ দরকার, কিন্তু তারপর আমাদের আত্মসমর্পণ করতে হবে।
পাওলো: একদম।
ওপরা: বইতে, আপনি লিখেছেন, “স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগে, পৃথিবীর আত্মা পথে যা শেখা হয়েছে তার সবকিছু পরীক্ষা করে। এটা এই কারণে করে না যে এটা মন্দ, বরং যাতে আমরা আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পাশাপাশি, সেই স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় যে পাঠগুলো শিখেছি সেগুলিতে দক্ষতা অর্জন করতে পারি।” আপনি আরও লিখেছেন, “যখন প্রকৃত পরীক্ষার মুহূর্ত আসে, তখনই বেশিরভাগ মানুষ হাল ছেড়ে দেয়।”
পাওলো: তাই। যখন তারা এত কাছে। যখন সেই লোকটি আমাকে বলেছিল দ্য অ্যালকেমিস্ট বিক্রি হবে না, উদাহরণস্বরূপ। বাহ। এখন যখন আমি লেখক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমার সব সেতু পুড়িয়ে ফেলেছি, আর ফ্রান্স থেকে স্পেন পর্যন্ত ক্যামিনো দে সান্তিয়াগোতে ৫০০ মাইল হেঁটেছি, আপনি আমাকে বলছেন এই বইটা ভাল নয়? আমি সহজেই বলতে পারতাম, সেই মুহূর্তে, “সে ঠিক বলেছে। আমাকে আরেকটা বই লিখতে দাও।”
ওপরা: তাহলে একটা ‘না’ কখন সত্যিকারের ‘না’? কারণ কখনও কখনও “না” মানে আসলেই “না” হয়।
পাওলো: এটা নির্ভর করে। [হাসেন]
ওপরা: হয়ত যদি আপনি আপনার হৃদয়ের কথা শুনছেন, তাহলে এটা আসলে কখনও সত্যিকারের ‘না’ নয়। বা, অন্তত, এটা একটা ভাল ‘না’—যেটা আপনাকে সেই দিকে পাঠাবে যেদিকে আপনার যাওয়ার কথা।
পাওলো: একদম। আমি কি আপনাকে একটা খুব ব্যক্তিগত গল্প বলতে পারি, ওপরা?
ওপরা: অবশ্যই।
পাওলো: প্রায় তিন বছর আগে আমার হার্ট সার্জারি হয়েছিল। আমি কেবল একটি সাধারণ স্ট্রেস টেস্ট করাতে গিয়েছিলাম, আর হঠাৎ ডাক্তাররা জানালেন—অপারেশন না করালে ৩০ দিনের মধ্যে আমি মারা যাব।
ওপরা: ওহ।
পাওলো: কিন্তু আমি বাড়ি গেলাম আর খুব শান্ত ছিলাম। আমি ভাবলাম, “আমার হার্ট সার্জারি হতে যাচ্ছে। আমি হয়ত কাল মারা যেতে পারি।” কিন্তু তারপর আমি বুঝলাম যে যদি আমি কাল মরে যাই, আমি আমার জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় কাটিয়েছি যে নারীকে আমি ভালবাসি তার সাথে। এই গ্রহে কত মানুষ এটা বলতে পারে? সে আমার চতুর্থ বিয়ে, কিন্তু আমরা ৩৫ বছর একসাথে কাটিয়েছি। আর আমি তাকে প্রতিদিন বলি “আমি তোমাকে ভালবাসি।” দ্বিতীয় যে জিনিসটা আমি ভাবলাম, আমি সবকিছু করেছি। আমি পাগল ছিলাম। আমি চরমে গিয়েছিলাম। তাই আমার অনুতাপ করার কিছু নেই, কারণ আমি সবকিছু করেছি।
ওপরা: আপনি গ্রেহাউন্ড বাসে একজন হিপ্পি ছিলেন।
পাওলো: হ্যাঁ। আর তৃতীয় যে জিনিসটা আমি বুঝলাম তা হল আমি আমার স্বপ্নের জন্য লড়াই করেছি। আমি ‘না’ উত্তর হিসেবে নিইনি। আমি লেখক হতে চেয়েছিলাম, আর আমি লিখেছি। তাই আমি ভাবলাম, যদি আগামীকালই মারা যাই, তবু সব ঠিক আছে।
ওপরা: বাহ।
পাওলো: সেটা ছিল ৩০ নভেম্বর, ২০১১। আমি জানি আমি শেষ পর্যন্ত মারা যাব। আর যখন আমি মরব, আমি সেই রাতে যে অনুভূতি পেয়েছিলাম সেই একই অনুভূতি নিয়ে মরতে চাই। জেনে যে আমি ভাল লড়াই করেছি আর আমার বিশ্বাস হারাইনি।
ওপরা: এটা একটা সুন্দর গল্প। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। আর আপনার বাড়িতে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ।
পাওলো: ওপরা উইনফ্রে, আসার জন্য ধন্যবাদ। ঈশ্বর আপনাকে আশীর্বাদ করুন।
অনুবাদ ও খসড়া: এআই; প্রম্পট ও সম্পাদনা: সাহিত্য ডেস্ক
